মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত, শিক্ষক পুলিশ হেফাজতে

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

নিয়মিত মাদ্রাসায় না যাওয়াকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আব্দুল্লাহ (১২) নামে এক হেফজখানার শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিবের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের হাতে আটক ওই শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আব্দুল্লাহ সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের প্রয়াত রুমান মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর খালু বলে জানিয়েছে পরিবার।

পুলিশ ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে আব্দুল্লাহকে ওই মাদ্রাসার হেফজখানায় ভর্তি করা হয়। তবে ভর্তি হওয়ার পর থেকে সে প্রায়ই কাউকে না জানিয়ে বাড়িতে চলে যেত। গত বৃহস্পতিবারও সে মাদ্রাসা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসে।

পরে শিশুটির মা আফরোজা বেগম শিক্ষক ইব্রাহিমকে বাড়িতে ডেকে আনেন এবং আব্দুল্লাহকে মাদ্রাসায় নিয়ে যেতে বলেন। বুধবার সকালে শিক্ষক তাকে মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়ার পর মারধর করেন বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে শিশুটি আহত হলে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করেন। একই সময় তাঁরা শিক্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুফতি ইব্রাহিমকে উত্তেজিত স্থানীয়দের কাছ থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে আহত আব্দুল্লাহকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে মারধরের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

নবীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে হেফাজতে নিয়ে থানায় আনে। শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম সি এইচ
আরও পড়ুন