স্কুল লিডারস কনফারেন্সে প্রতিমন্ত্রী

বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থার কারিকুলামে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যে মাধ্যমেই পড়াশোনা করুক, মৌলিক জ্ঞান, দক্ষতা ও শেখার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার রেডিসন হোটেলে অক্সফোর্ড একিউএ ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস আয়োজিত ‘স্কুল লিডারস কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সেরা শিক্ষাচর্চা অনুসরণ করাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য নয়। বরং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকেই যেন বিশ্বের অন্যান্য দেশ শিক্ষা ব্যবস্থার ভালো চর্চাগুলো অনুসরণ করে, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও কঠোর পরিশ্রম করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী ইংরেজি, বাংলা কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে পড়াশোনা করলেও তার মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন মানদণ্ড থাকা উচিত। ভালো ও তুলনামূলক কম ভালো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য থাকতেই পারে। তবে কারিকুলাম ও শিক্ষার মৌলিক মানে বড় ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়।

প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক বিষয়গুলোতে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কার্যকর শিখন ঘণ্টা, শ্রেণিকক্ষের আয়তনের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকের মতো বিষয়গুলোতে সুস্পষ্ট ন্যূনতম মানদণ্ড থাকা জরুরি। কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই একজন শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।

প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ভবিষ্যতের প্রাথমিক শিক্ষায় কার্যক্রমভিত্তিক ও খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলোর অভিজ্ঞতা এবং লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এলএমএস) কার্যকর ব্যবহারের বিষয়গুলো থেকেও সরকার শিক্ষা নিতে চায়। নতুন কারিকুলাম প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। ববি হাজ্জাজ বলেন, নতুন কারিকুলাম তৈরির পর কেউ যেন বলতে না পারেন যে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা ও মতামত নিয়েই সরকার এগিয়ে যেতে চায়। তিনি বলেন, কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি- এই চার ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সমতাভিত্তিক অবস্থানে নিয়ে আসার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

অক্সফোর্ড একিউএ-এর বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহীন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা এবং ঢাকার বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।

জেএম
আরও পড়ুন