মৃত্যুর পর দাফন-কাফন ও জানাজার খরচ নিয়ে যেন কাউকে ঝামেলায় পড়তে না হয়, সে জন্য ভিক্ষা করে টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ ওয়াহাব পাটোয়ারী। ভোলার মনপুরায় স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘মফুর বাপ’ নামে পরিচিত ছিলেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের কবির বাজারে মেয়ের বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা ওয়াহাব পাটোয়ারী মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। এর পর থেকে পরিবার ছেড়ে হাটে-বাজারে ঘুরে ভিক্ষা করতেন এবং পথঘাটেই রাত কাটাতেন। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা পলিথিনে মুড়িয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে আমানত হিসেবে জমা রাখতেন তিনি। স্থানীয়রা জানান, নিজের মৃত্যুর পর দাফন ও মানুষকে খাওয়ানোর খরচের চিন্তাতেই তিনি এই অর্থ জমিয়েছিলেন।
বৃদ্ধের মৃত্যুর পর সাবেক চেয়ারম্যানের কাছে রাখা পুঁটলি খুলে ৮ হাজার ৯৮৫ টাকা পাওয়া যায়। এরপর সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার ব্যক্তিগতভাবে ৫ হাজার টাকা, স্থানীয় যুবদলের সাবেক সভাপতি রাজিব চৌধুরী ৫ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী শাহীন ২ হাজার টাকা পরিবারকে সহায়তা হিসেবে দেন।
শুক্রবার জুমার আগেই সেই জমানো ও সহায়তার টাকায় কাফনের কাপড় কেনা হয়। পরে কলাতলী ইউনিয়নের মনির বাজার জামে মসজিদে জানাজা শেষে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি রাজিব চৌধুরী জানান, নিজের দাফনের টাকা নিজেই জমিয়ে রেখেছেন। ওয়াহাব পাটোয়ারী (ভিক্ষুক) দাদার ওসিয়ত মতে সবকিছু করা হবে। স্থানীয়রা সবাই মিলে আয়োজন করে মানুষজন খাওয়ানো হবে।
যেসব পরিচিত লক্ষণ হার্ট অ্যাটাকের সংকেত
যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরান মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান