হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা, যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলো ইরান

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার পর এ ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, হামলাটি করেছে ‘মার্কিন সন্ত্রাসী শত্রু’।

আইআরআইবি কেশমের গভর্নর আমির তেইমুরির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী ওই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখছে। হামলায় একজনের মৃত্যু এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর মধ্যেই একের পর এক কার্গো ও বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হওয়ায় আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে এই জলপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এখানে কোনো জাহাজে হামলা বা নৌ চলাচলে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব দ্রুত তেলের বাজার ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় পড়তে পারে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ এখন আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের অভিযোগ করে আসছে। বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের প্রতিবেদনে হামলার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হলেও ঘটনাটির বিস্তারিত পরিস্থিতি এবং হামলার ধরন সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আরও স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার পেছনে কারা ছিল এবং কীভাবে জাহাজটি আক্রান্ত হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

তবে একজনের প্রাণহানি ও তিনজন আহত হওয়ার ঘটনা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে হামলা অব্যাহত থাকলে বীমা ব্যয়, জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এবং জ্বালানি সরবরাহ সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে।

এর ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এএম
আরও পড়ুন