সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের উৎক্ষেপণস্থল শনাক্ত করে সরঞ্জাম জব্দ করার দাবি করেছে ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী। বাগদাদের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো যৌথ অভিযানে এসব সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। হামলার কারণে সৌদির তেল পরিবহন ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
ইরাকের সিকিউরিটি মিডিয়া সেলের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে ড্রোন উৎক্ষেপণের সরঞ্জামগুলো শনাক্ত ও জব্দ করা হয়। হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উৎক্ষেপণস্থলটি শনাক্ত করতে ইরাকের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালায়। পরে অভিযান পরিচালনা করে সেখানে থাকা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে ইরাক সরাসরি যোগাযোগ রাখছে বলেও জানিয়েছেন সাদ মান। হামলা-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিনিময় করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ইরাকি এই কর্মকর্তা বলেন, দেশের নিরাপত্তা নীতিতে ‘প্রতিরোধমূলক সার্বভৌমত্ব’ বা ‘preventive sovereignty’ নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অর্থ, শুধু ইরাকের ভূখণ্ডে হামলা ঠেকানো নয়, দেশটির মাটিকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহার করতে না দেওয়া। তার ভাষায়, ইরাক কোনো পক্ষের প্রক্সি যুদ্ধে জড়াতেও চায় না।
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলের তেল উৎপাদন এলাকা থেকে অপরিশোধিত তেল পশ্চিম উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে পরিবহন করা হয়। এতে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির ওপর সৌদির নির্ভরতা কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পাইপলাইনে হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ায় বিকল্প তেল পরিবহনপথের নিরাপত্তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি তেল অবকাঠামোয় হামলার অভিযোগ বাগদাদের জন্যও স্পর্শকাতর। দেশটির সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর কোনোটি যাতে প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হামলায় ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে বাগদাদের ওপর চাপ রয়েছে।
ড্রোন উৎক্ষেপণস্থল জব্দের দাবি সেই নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলায় ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তবে উৎক্ষেপণস্থলটি কারা ব্যবহার করেছিল এবং হামলার সঙ্গে কোন গোষ্ঠী জড়িত ছিল, সে বিষয়ে ইরাকি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তদন্ত এগিয়ে গেলে হামলার পরিকল্পনাকারী ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
ইরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের ভূখণ্ডকে কোনো আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ বা অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলার প্ল্যাটফর্ম হতে না দেওয়াই এখন বাগদাদের অন্যতম প্রধান নিরাপত্তা অগ্রাধিকার।
ভানুয়াতুতে ফেরি ডুবে নিহত ১, নিখোঁজ ৩০ জনের বেশি
তৃণমূল বাংলাকে বৃহত্তর বাংলাদেশ বানাতে চেয়েছিলো: শুভেন্দু
ইসলামের নামে যারা সমাজে ঘৃণা ছড়ায়, তারা সর্বোচ্চ মাসুদ হওয়ার যোগ্য’