আসিফ নজরুলের ছাগল জবাই করে খেলো পাটওয়ারী!

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

দুই বছর পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে ছাগল। ২০২৪ সালে ১৫ লাখ টাকার ছাগল নিয়ে যে আলোচনা-সমালোচনার শুরু, ২০২৬ সালে তা ফিরেছে ভিন্ন এক ঘটনায়। এবার অভিযোগ, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মেয়ের পালিত ছাগল জবাই করে খেয়ে ফেলা হয়েছে। আর এ ঘটনায় অভিযোগের তীর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজনের দিকে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি টকশোর ভিডিওতে আসিফ নজরুলকে এ অভিযোগ করতে শোনা যায়। তাঁর ভাষ্য, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন তাঁর মেয়ের পালিত ছাগল জবাই করে খেয়ে ফেলেছেন। ছাগলটি কীভাবে জবাই করা হয়েছিল, সে বর্ণনাও দেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁর মেয়ে এখনও জানে না ছাগলটি জবাই করে খেয়ে ফেলা হয়েছে। সে এখনও ছাগলটি খুঁজে বেড়াচ্ছে।

আসিফ নজরুল বলেন, ছাগলটি হারিয়ে তাঁর মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে তাঁর বেশ সময় লেগেছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য ভিন্ন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আসিফ নজরুলের ছাগল দুটিই খাওয়া উচিত ছিল। তাঁর ভাষ্য, একটি ছাগল খাওয়া হয়েছে, অথচ তাঁর মতে দুটিই খাওয়া উচিত ছিল। একটি বাদ দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধিক্কারও জানান তিনি।

পাটওয়ারী একইসঙ্গে আসিফ নজরুলকে ‘খুব ভালো মানুষ নন’ বলে মন্তব্য করেন। তবে শিক্ষক হিসেবে তাঁকে ভালো মানুষ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আসিফ নজরুল রাখেননি।

পাটওয়ারীর আরও দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আসিফ নজরুল গরু, ছাগল ও মুরগি পালন শুরু করেছিলেন। এসব প্রাণী যেখানে রাখা হতো, সেখানে পুলিশের নিরাপত্তাও দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

দুই বছর আগে ১৫ লাখ টাকার ছাগল

ছাগল নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচনার আগের অধ্যায়টি শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে। ওই বছরের কোরবানির ঈদের আগে ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল কিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক তরুণ। তাঁর বাসা ঢাকার ধানমন্ডিতে। ইফাত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ড. মো. মতিউর রহমানের ছেলে।

সে সময় মতিউর রহমান ছেলের পরিচয় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাঁর ও পরিবারের সম্পদের বিষয়ে নানা তথ্য সামনে আসে। একপর্যায়ে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যান মতিউর রহমান। আর ১৫ লাখ টাকার সেই ছাগলটি হয়ে ওঠে আলোচিত ‘ছাগলকাণ্ডের’ প্রতীক।

২০২৪ সালের ৪ জুন মতিউর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ থাকার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে তাঁদের নামে ৬৫ বিঘা জমি, আটটি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়ার কথা জানায় সংস্থাটি। তাঁদের ব্যাংক হিসাব, মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) হিসাব ও শেয়ারবাজারের বিও হিসাবও জব্দ করা হয়।

পাটওয়ারীও আলোচনায়

ছাগলকাণ্ডের নতুন পর্বে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অবশ্য রাজনীতিতে আলোচিত মুখ। বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রায়ই আলোচনা-সমালোচনা হয়।

সম্প্রতি প্রাডো গাড়িতে করে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে যোগ দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। পরে ওই গাড়ি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হয়।

এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন পাটওয়ারী। সম্প্রতি মির্জা আব্বাসের নির্বাচনী আসনের ভোটারও হয়েছেন তিনি।

২০২৪ সালের ১৫ লাখ টাকার ছাগল থেকে ২০২৬ সালের ‘পালিত ছাগল’—দুই ঘটনার প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও আলোচনার কেন্দ্রে সেই একই প্রাণী। তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, এবার কার ছাগল, কে খেল—আর কে কার বেড়া কেটেছিল?

এমইউ
আরও পড়ুন