কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তি, আলোচনা-সমালোচনা ও অনুষ্ঠান নিয়ে অনিশ্চয়তার পর শেষ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। তবে আগের নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয় কনসার্ট। সেখানে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’র পরিবেশনায় গান শুনতে জড়ো হন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও দর্শক। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয় আয়োজনটি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কলেজের মূল ক্যাম্পাসসংলগ্ন নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্থানীয় শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। পরে ঢাকার জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’র হাসান ইথার ও তার দলের সদস্যরা মঞ্চে ওঠেন। তাদের পরিবেশনায় উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে আসরের নামাজের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। পরে আবার গান শুরু হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনুষ্ঠান ঘিরে কলেজের প্রধান ক্যাম্পাস, কলেজপাড়ার সড়ক ও দক্ষিণ ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল। কলেজের অর্থনীতি বিভাগের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদেও অনেককে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দেখা যায়। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ নয়, আশপাশের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এর আগে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ উপলক্ষে কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির দাবি ছিল, স্থানীয় ঐতিহ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সাধারণ মানুষের অনুভূতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কনসার্টটি স্থগিত করা হোক।
পরদিন শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুবের বাসভবনে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়। বৈঠকের পর প্রধান ক্যাম্পাসে নবীনবরণ, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কোনো ‘অশ্লীলতা’ থাকবে না এমন শর্তের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এর ফলে আগের নির্ধারিত স্থান থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার পর অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় দক্ষিণ ক্যাম্পাসে।
সোমবারের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক ও সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ওবায়দুল হক।

কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় চার বছর পর নবীনবরণ অনুষ্ঠান হওয়ায় তারা উচ্ছ্বসিত ছিলেন। অনুষ্ঠান নিয়ে কয়েক দিন ধরে নানা আলোচনা ও অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়ায় তাঁরা আনন্দিত।
এদিকে অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়। কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তি ও আগের কয়েকটি সাংস্কৃতিক আয়োজন ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠান হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইনে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তার আগে ৩০ মে কওমি শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যায়। এসব ঘটনার পর সরকারি কলেজের নবীনবরণে কনসার্ট আয়োজন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছিল।
ফরিদপুরে গাঁজা সেবনের সময় ৪ জন আটক
মিয়ানমারে বন্দি ৯ বাংলাদেশি জেলে, পরিবার উৎকণ্ঠায়
২৮০ মৌ-বাক্স পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, নিঃস্ব মৌচাষি