পরমাণু চুক্তি থেকে ইরানের বেরিয়ে আসা উচিত: হাজি-দেলিগানি

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি (এনপিটি) থেকে ইরানের বেরিয়ে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির আইনপ্রণেতা হোসেইন আলি হাজি-দেলিগানি। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) তিনি বলেন, এনপিটিতে থাকার কারণে ইরানের কোনো লাভ হচ্ছে না; বরং এতে দেশটির ক্ষতিই হচ্ছে। ‘এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসাই আমাদের স্বার্থে ‘ বলেন হাজি-দেলিগানি।

তিনি জানান, একদল আইনপ্রণেতা ইতোমধ্যে ইরানকে এনপিটি থেকে প্রত্যাহারের দাবিতে একটি জরুরি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। বিষয়টি সংসদে আলোচনার জন্য অনুমোদন দিতে তিনি পার্লামেন্টের প্রেসিডিয়াম বা পরিচালনা বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরানের পার্লামেন্টে এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দাবি নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে বিরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কয়েকজন কট্টরপন্থি আইনপ্রণেতা এই দাবি জোরালো করেছেন।

এর আগে হাজিদেলিগানি দ্রুততম প্রক্রিয়ায় এনপিটি থেকে প্রত্যাহারের একটি প্রস্তাব প্রস্তুতের কথা জানিয়েছিলেন। তবে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির কয়েকজন সদস্য পরে দাবি করেন, এ ধরনের কোনো প্রত্যাহার বিল তাদের কমিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়েনি। ফলে প্রস্তাবটি বর্তমানে সংসদের কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এদিকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইও সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার রাজনৈতিক ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড দেশগুলোকে এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।

এনপিটি হলো বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তিগুলোর একটি। চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার ঠেকানো, শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করা এবং নিরস্ত্রীকরণের দিকে অগ্রসর হওয়া। ইরানের এনপিটি থেকে প্রত্যাহারের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে শুধু কোনো আইনপ্রণেতার বক্তব্য বা প্রস্তাব উত্থাপনের দাবি দিয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমনটা বলা যাচ্ছে না।

বর্তমানে বিষয়টি ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের পর্যায়েই রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বক্তব্যেও পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ফলে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত সংসদে উঠবে কি না এবং উঠলে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জেএম
আরও পড়ুন