আলোচনা এবং লড়াই দুটোই চালিয়ে যেতে হবে: গালিবাফ

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

ইরানকে সামরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনাও চালিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভার্চুয়াল পার্লামেন্ট অধিবেশনে তিনি বলেন, যুদ্ধ ও আলোচনা দুটিকে পরস্পরের বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ইরানের উচিত পরিস্থিতি অনুযায়ী একই সঙ্গে সামরিক প্রতিরোধ জোরদার করা এবং উপযুক্ত সময়ে কর্তৃত্ব ও যুক্তির সঙ্গে আলোচনায় বসা।

গালিবাফ বলেন, “আমাদের যুক্তিসংগত ও শক্ত অবস্থান নিয়ে লড়াই করতে হবে এবং উপযুক্ত সময়ে কর্তৃত্ব ও যুক্তির সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।”

তার বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ ও নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর তৎপরতা চলছে। এর আগে ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছিলেন, কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে যুদ্ধ বন্ধের কয়েকটি শর্ত পাঠিয়েছে তেহরান। প্রকাশ্যে আসা শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান।

গালিবাফের বক্তব্যে আরও উঠে এসেছে ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ ও তার সম্ভাব্য কৌশলগত প্রভাবের বিষয়টি। তিনি বলেন, জনগণের প্রতিরোধ ইরানের জন্য নতুন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতেও গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা হলে তেহরানের প্রতিক্রিয়া আরও দ্রুত ও কঠোর হবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এর আগের আলোচনাতেও বড় ধরনের মতপার্থক্য দেখা গেছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দীর্ঘ বৈঠকের পরও দুই পক্ষ কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তার দাবি ছিল, আর তেহরান বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শর্ত সামনে এনেছিল।

ফলে গালিবাফের সর্বশেষ বক্তব্যে সামরিক প্রতিরোধ ও কূটনৈতিক তৎপরতাকে একই কৌশলের অংশ হিসেবে দেখার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ তেহরান একদিকে সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করছে না।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত