জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সব খাতে চাপ বাড়বে: বিসিআই সভাপতি

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম

জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে দেশের শিল্প, পরিবহনসহ সব খাতে ব্যয় বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। তাঁর মতে, চলমান মূল্যস্ফীতি ও শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করবে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে সরকার জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণার পর একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই কথা বলেন।

আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে, যা এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এর মধ্যে শিল্পকারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধিও কম। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা না করে জ্বালানি তেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি বাড়ানোয় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব প্রথমে শিল্পের উৎপাদন ব্যয় ও পরিবহন খরচে পড়বে। এরপর পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি হবে। এতে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম সংকুচিত করতে বাধ্য হতে পারে এবং কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিসিআই সভাপতি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যয় বাড়লে অনেক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে। এর প্রভাব ব্যাংক খাতেও পড়তে পারে এবং খেলাপি ঋণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। একই সঙ্গে সরকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি মনে করেন।

তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে সরকারের ওপর জনগণের আস্থা কমতে পারে। সামগ্রিকভাবে এর প্রভাবে দেশে আর্থসামাজিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে রোববার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে। এতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা করা হয়। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।

এমইউ
আরও পড়ুন