পানির সংকটে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠী

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৭ এএম

মাসাফের ইয়াত্তার প্রত্যন্ত ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে পানির সংকটে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য পানির ট্যাংকার অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পানি পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। আগস্টের এক প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি নিউজ নেটওয়ার্ক (PNN) জানায়, এলাকার বাসিন্দাদের কাছে পানি পৌঁছে দিতে ট্যাংকার চালকদের নিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিতে হয়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও ওই এলাকায় পানির সরবরাহ নিয়ে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর ওয়াফা জানায়, মাসাফের ইয়াত্তার আদ-দাকিকা গ্রামে পানি সরবরাহকারী একটি পাইপলাইন কেটে দেওয়া হয়, যার ফলে প্রায় ৭০০ বাসিন্দা পানির সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হন বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের দক্ষিণে মাসাফের ইয়াত্তার কাছে আল-কারমেল গ্রামে অভিযান চালিয়ে পানির দুটি ট্যাংকার জব্দ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা (WAFA) এ তথ্য জানিয়েছে।

ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোরে ইসরায়েলি সেনারা হেবরনের দক্ষিণে ইয়াত্তার পূর্বদিকে অবস্থিত আল-কারমেল গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় আত-তাওয়ানি গ্রাম পরিষদের মালিকানাধীন দুটি পানির ট্যাংকার জব্দ করা হয়। ট্যাংকার দুটি মাসাফের ইয়াত্তার আল-হালাওয়া এলাকায় পানি সরবরাহের জন্য যাচ্ছিল।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে ওয়াফা জানিয়েছে, ট্যাংকার দুটির চালক রুবহি আহমেদ রাবাই ও কাসেম মোহাম্মদ রাবাইকেও আটক করা হয়েছে। পরে তাদের মাসাফের ইয়াত্তার খিরবাত আল-মারকাজ এলাকার কাছে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটির দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে খিরবাত আল-ফাখিত এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ঘরবাড়ি ও পশুর খোঁয়াড়সহ পানির ট্যাংক, স্যানিটেশন স্থাপনা ও সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম ধ্বংস এবং একটি পানির কূপ ভরাট করেছে বলে ওয়াফা জানিয়েছিল।

মাসাফের ইয়াত্তা অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে অভিযান, ধ্বংসযজ্ঞ ও চলাচলে বিধিনিষেধ নিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। ২ সেপ্টেম্বর খিরবাত আত-তাবান এলাকায় ১২টি বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করা হয় বলে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বি’তসেলেম জানিয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে পানির চারটি সিস্টার্ন, ১৫টি পানির ট্যাংক এবং একটি পানিবাহী ট্যাংকারও ধ্বংস করা হয়।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সাধারণত পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’ এলাকায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া নির্মাণের অভিযোগে কিছু স্থাপনা অপসারণের কথা বলে থাকে। মাসাফের ইয়াত্তার ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও প্রশাসনের বিভিন্ন বিধিনিষেধের পাশাপাশি ওই অঞ্চলকে সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকার অংশ হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।

এএম
আরও পড়ুন