হুথি হামলা ঠেকাতে সৌদি যুদ্ধবিমানে জ্বালানি দেবে ব্রিটেন

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম

ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সীমিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। এর অংশ হিসেবে সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করবে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (RAF)।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের অনুরোধের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরামর্শে তিনি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন।

বার্নহ্যাম জানান, এই চুক্তি সীমিত সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি RAF Voyager বিমান দিয়ে এই সহায়তা শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে কয়েক সপ্তাহের জন্য এই ব্যবস্থা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মিশনের উদ্দেশ্য হুথিদের অবস্থানে হামলা চালাতে সৌদি যুদ্ধবিমানকে সহায়তা করা নয়। বরং সৌদি আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পরিচালিত প্রতিরক্ষামূলক মিশনে থাকা সৌদি বিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করা।

এর ফলে সৌদি যুদ্ধবিমান দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করতে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক টহল পরিচালনা করতে পারবে।

সৌদি আরব সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। শনিবার রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি হামলা চালানো হয়েছিল, যা সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী প্রতিহত করা হয়। হুথিরা সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে হুথিরা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা এবং লোহিত সাগরের কয়েকটি কৌশলগত দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে জাহাজ চলাচলের ওপর নজরদারি ও চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা তাদের বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে এখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে তেলসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।

বার্নহ্যাম বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর হামলা এবং ভবিষ্যতে আরও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কারণে ব্রিটেনকে নিজের ও বৃহত্তর অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহনের পথগুলো খোলা রাখার বিষয়টিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। চলতি বছর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে ব্রিটেন দেশটিতে স্কাই সাবর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করেছিল বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।

তবে এবারের সিদ্ধান্তের পরও ব্রিটিশ বাহিনী সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলায় অংশ নিচ্ছে না। ব্রিটিশ সরকারের ঘোষিত ভূমিকা আপাতত সৌদি যুদ্ধবিমানকে প্রতিরক্ষামূলক মিশনে জ্বালানি সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

এর আগে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাজ্য। এবারের মিশনটি সেই ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান নয় বরং সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সীমিত সহায়তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

সৌদি আরব এর আগে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য ছাড়াও ফ্রান্স, পাকিস্তান ও মিসরের মতো মিত্রদের কাছ থেকে বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে বলে এপি জানিয়েছে। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত এখন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের ওপরও নতুন চাপ তৈরি করছে।

এএম
আরও পড়ুন