রয়টার্সের প্রতিবেদন 

বিশ্বজুড়ে ডিজেলসংকট, ২০২৭ সালেও কাটবে না চাপ

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৯ পিএম

বিশ্বজুড়ে ডিজেল সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা ২০২৭ সালেও অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন, শোধনাগারের উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বিভিন্ন দেশে মজুত কমে যাওয়ায় জ্বালানিটির বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ডিজেলের দামও রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উৎস থেকে ডিজেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে বাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কম পৌঁছাচ্ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে ডিজেলের মজুতও কমে গেছে।

সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি সেপ্টেম্বরেই খুচরা ডিজেলের দাম প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলারের ওপরে উঠেছে। ইউরোপেও ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জ্বালানিটির ওপর কৃষি, ভারী পরিবহন, উৎপাদন ও নির্মাণসহ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) জানিয়েছে, দেশটির ডিজেলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত সেপ্টেম্বর মাসে ১০ কোটি ব্যারেলের নিচে নেমে যেতে পারে এবং ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ও ২০২৭ সালের বেশির ভাগ সময় পাঁচ বছরের গড়ের নিচে থাকতে পারে। ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মজুত দাঁড়ায় ১০৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেল, যা ১৯৮২ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরুর পর সেপ্টেম্বরের এ সময়ের জন্য সর্বনিম্ন।

ডিজেলসংকটের আরেকটি চিত্র দেখা যাচ্ছে সংরক্ষণ বাজারেও। জ্বালানি সংরক্ষণবিষয়ক ব্রোকার প্রতিষ্ঠান দ্য ট্যাংক টাইগারের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে অক্টোবরের জন্য লিজ নেওয়ার মতো ডিজেল সংরক্ষণ সক্ষমতা ১৩ মিলিয়ন ব্যারেলে উঠেছে, যা জুনে ছিল ১১ মিলিয়ন ব্যারেল। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের মতে, জ্বালানি সংরক্ষণের জন্য ট্যাংক লিজ নবায়ন না করায় খালি সক্ষমতা বাড়ছে—কারণ অনেক ব্যবসায়ীর কাছে মজুদ করার মতো পর্যাপ্ত ডিজেল নেই।

ইউরোপের আমস্টারডাম-রটারডাম-অ্যান্টওয়ার্প (এআরএ) বাণিজ্যিক জ্বালানি মজুত কেন্দ্রেও পরিস্থিতি চাপের। জুলাইয়ে সেখানে ডিজেলের মজুত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম ছিল। সিঙ্গাপুরেও ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত ২০২৫ সালের গড়ের নিচে রয়েছে।

তবে সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। চীন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি বাড়িয়েছে। আগস্টে দেশটির ডিজেল রপ্তানি এক বছরের তুলনায় ৪২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া উচ্চ পরিশোধন মুনাফা উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

তবে মধ্যপ্রাচ্য বা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে কিংবা বড় কোনো শোধনাগার বন্ধ হয়ে গেলে ডিজেলের দাম আবারও বাড়তে পারে। ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত উন্নত না হলে ২০২৭ সালেও বিশ্ববাজারে ডিজেলের ঘাটতি ও উচ্চমূল্যের চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এমইউ
আরও পড়ুন