মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠন ও নতুন অবকাঠামো নির্মাণে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ওপর অঞ্চলটির জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে নতুন একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রস্তাবটি নিয়ে নিউইয়র্কে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনা করতে পারেন বলে তিনটি সূত্র জানিয়েছে। গত সপ্তাহ থেকেই প্রস্তাবটি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ঘুরছে বলে সূত্রগুলোর বরাতে জানিয়েছে সিএনএন।

ছয় পৃষ্ঠার এই প্রস্তাবের নাম দেওয়া হয়েছে প্যাক্ট। এতে ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি কৌশলগত তহবিল গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এই তহবিল থেকে পাইপলাইন, শোধনাগার, বন্দরসহ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে অর্থায়নের কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তহবিলে বিনিয়োগ করবে। তবে কোন কোন দেশ বাস্তবে অর্থ দেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আঞ্চলিক দুটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ উদ্যোগটিকে সমর্থন করার পরিকল্পনা করলেও আপাতত এতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়নি।

তবে প্রস্তাবটি নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। আঞ্চলিক সূত্রগুলো মনে করছে, এই উদ্যোগ চলমান সংঘাতের অবসানে কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এরই মধ্যে ইরান-সমর্থিত হুথিরা লোহিত সাগর ও সৌদি আরবে হামলা জোরদার করায় সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।

প্রস্তাবে বৈশ্বিক সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পৃথক প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকায় কেকেআর, ব্ল্যাকস্টোন, কেবিআইসি ও গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার পার্টনার্সের নাম রয়েছে।

প্রস্তাবের সঙ্গে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান দেখানো একটি মানচিত্রও রয়েছে। এতে দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারিতে প্রাথমিক প্রকল্পগুলোর ঘোষণা আসতে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই প্রস্তাবের খবর প্রকাশ করে।

তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নয়। সিএনএনের পর্যালোচনা করা নথিগুলোতে খসড়া হিসেবে উল্লেখ থাকায় পরবর্তী সময়ে এর বিভিন্ন বিষয় পরিবর্তিত হতে পারে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে সিএনএন। সূত্র: সিএনএন

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত