শিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে ট্রাম্পের বিরল উদ্যোগ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে পৌঁছানো চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে নিজেই উপস্থিত হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটনের বাইরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটিতে শি ও তাঁর স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে অভ্যর্থনা জানান ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইরান ইস্যুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার মধ্যে শুরু হলো শির এই সফর।

শি জিনপিং বিমান থেকে নামার পর ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প তাকে এবং তাঁর স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে করমর্দনের মাধ্যমে স্বাগত জানান। এ সময় সামরিক ঘাঁটিতে লালগালিচা বিছানো ছিল।

পরে ট্রাম্প ও শি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সামরিক ব্যান্ডের পরিবেশনায় দুই দেশের জাতীয় সংগীত শোনেন। এ সময় আকাশে দুটি বি-১ বোমারু বিমানের উড্ডয়নও দেখা যায়। বিমানের বিকট শব্দে ট্রাম্পকে কিছুটা চমকে উঠতে দেখা গেলেও শি ছিলেন শান্ত।

শি এর আগে মে মাসে বেইজিং সফরের সময় ট্রাম্পকে একই ধরনের বিমানবন্দর অভ্যর্থনা না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে ট্রাম্প তা গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, তিনি মনে করেন অভ্যর্থনাটি ভালো হয়েছে এবং চীনা পক্ষও বিষয়টি প্রশংসা করেছে।

আলোচনায় ইরান, এআই ও বাণিজ্য

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর এটি শি ও ট্রাম্পের তৃতীয় সাক্ষাৎ। সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, সামরিক কুচকাওয়াজ, ওভাল অফিসে বৈঠক এবং রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ হওয়ার কথা রয়েছে।

শুক্রবার সকালে দুই প্রেসিডেন্ট ও তাঁদের স্ত্রীরা হোয়াইট হাউসে চা পানের পর ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শন করবেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নথি সংরক্ষিত রয়েছে।

তবে এই বৈঠক থেকে বড় কোনো চুক্তি বা অগ্রগতির প্রত্যাশা কম। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে ভঙ্গুর স্থিতিশীলতা ধরে রাখাই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বৈঠকে ইরানের যুদ্ধের বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। চীনের পক্ষ থেকে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে আগে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের গুরুত্বও তিনি কমিয়ে দেখিয়েছিলেন। তবে বুধবার ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি শির সঙ্গে আলোচনা করবেন।

এদিকে ট্রাম্পের আরোপ করা ব্যাপক শুল্ককে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনাও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শীর্ষ বৈঠকের আগে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, বাণিজ্যযুদ্ধের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

আগামী ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকা এই সমঝোতা এখন আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বেসেন্ট এটিকে দুই দেশের মধ্যে ‘অর্থনৈতিক উত্তেজনা কমানোর’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে বড় কোনো ব্যবসায়িক চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে প্রত্যাশা কমেছে। এএফপিকে দুটি সূত্র জানিয়েছে, শির প্রতিনিধিদলে কোনো চীনা কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নেই। বিপরীতে বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বড় এআই কোম্পানিগুলোর প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন।

সূত্র: এএফপি

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত