যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার আরও বাড়ার আশঙ্কা এবং তেলের দাম কমে যাওয়ার টানাপোড়েনে স্বর্ণের বিশ্ববাজারে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি সামান্য পরিবর্তিত হয়ে ৪,২৯১.৪৮ ডলারে অবস্থান করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৩২৬.৩০ ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তথ্যের কারণে ফেড সুদের হার আরও বাড়াতে পারে বলে জোর গুঞ্জন চলছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে অক্টোবরের শেষের দিকেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার বাড়ানো হতে পারে বলে বাজি ধরছেন ব্যবসায়ীরা।
ভিটি মার্কেটসের শীর্ষ কৌশল কর্মকর্তা রস ম্যাক্সওয়েল জানান, গত সপ্তাহে সুদের হার বাড়ানোর পর বিনিয়োগকারীরা এখন ফেডের ‘দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ সুদের হার’ নীতির ওপর নজর রাখছেন। পাশাপাশি মার্কিন ডলার ও ট্রেজারি বন্ডের আয়ের ওঠানামা এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ঝুঁকি নিয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছেন তারা। ফেড যদি আবার সুদের হার বাড়ানোর স্পষ্ট বার্তা দেয়, তবে স্বর্ণের দাম আরও কমে যেতে পারে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির সময় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করা হলেও, সুদের হার বাড়লে অন্য লাভজনক খাতে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকতে দেখা যায়। ফলে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাবাণিজ্যের গতি সেপ্টেম্বরে পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চাহিদার এমন তীব্রতায় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং পণ্যের দাম বাড়ছে।
ইন্তেস সানপায়েলোর অর্থনীতিবিদ দানিয়েলা করসিনি এক নোটে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক প্রান্তিকজুড়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স গড়ে ৪,২০০ ডলারের কাছাকাছি ওঠানামা করতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও প্রভাব পড়েছে। স্পট সিলভার বা রূপার দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪.২৩ ডলারে নেমেছে। তবে প্ল্যাটিনামের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে ১,৭৫৫.৬৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ১,২৬৯.৪৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
ভিসা ছাড়া মালয়েশিয়া ভ্রমণ: শর্ত কী, নিয়ম ভাঙলে কী শাস্তি?
এআই কী সত্যিই ব্যথা অনুভব করতে পারে?