সম্প্রতি চীনে 'কায়রাসরাস চ্যাংলিয়েনসিস' (Kayrasaurus changliensis) নামের এক নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের প্রায় পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল উদ্ধার করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা।
চীনের পশ্চিমাঞ্চলের লিয়াওনিং প্রদেশের আর্লি ক্রিটেসিয়াস যুগের 'ইক্সিয়ান ফর্মেশন' থেকে নতুন এই প্রজাতির থেরিজিনোসর (Therizinosaur) শ্রেণির ডাইনোসরের সন্ধান মেলে। প্রধানত নিরামিষাশী এই শ্রেণির ডাইনোসরগুলোর লম্বা ঘাড়, ফোলা পেট এবং খাবার সংগ্রহের জন্য বিশাল আকৃতির ধারালো নখ থাকত।
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাক-ঐতিহাসিক এই ডাইনোসরটির দৈর্ঘ্য ছিল ৩.৬ মিটারেরও (প্রায় ১২ ফুট) বেশি। ওজন ছিল আনুমানিক ১১৭ কেজি থেকে ২৭৪ কেজি পর্যন্ত। উত্তর-পূর্ব চীনের প্রাচীন 'জেহোল বায়োটা' ইকোসিস্টেমে পাওয়া এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে বড় থেরিজিনোসর, যা পূর্বের রেকর্ডধারী 'বেইপিয়াওসরাস'-এর চেয়ে অন্তত ১.৬ গুণ বড়।
আন্তর্জাতিক সাময়িকী 'জার্নাল অব সিস্টেমেটিক প্যালিয়ন্টোলজি'-তে প্রকাশিত গবেষণায় লিন্ডসে জানো ও শিং শুসহ অন্যান্য বিজ্ঞানীরা জানান, এই প্রজাতিটির শারীরিক গঠন আগের আবিষ্কৃত প্রজাতিগুলোর অনেক অজানা তথ্য উন্মোচন করেছে।
অন্যান্য ডাইনোসরের থেকে কেন আলাদা?
নতুন ডাইনোসরটির সবচেয়ে অদ্ভুত দিক হলো এর চোয়াল ও দাঁতের গঠন। এর ওপরের চোয়ালে ৩২টিরও বেশি এবং নিচের চোয়ালে ৪৫টির বেশি অত্যন্ত ছোট ছোট এবং ঘনভাবে সাজানো দাঁত ছিল। এ ছাড়া এর ঘাড়ের হাড় পিঠের হাড়ের চেয়ে অনেক লম্বা ছিল এবং একটি নখে বিশেষ উঁচু খাঁজ লক্ষ্য করা গেছে, যা অন্য কোনো থেরিজিনোসরে আগে দেখা যায়নি।
এর ওপরের চোয়ালে নাকের কাছে একটি অস্বাভাবিক বড় ছিদ্র ছিল এবং নাকের হাড়টি চোখের কোটরের মাঝখান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে দুভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল।
জীবনযাত্রার ভিন্নতা
গবেষকেরা মনে করছেন, একই অঞ্চলে বাস করলেও বিভিন্ন প্রজাতির থেরিজিনোসরের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস ভিন্ন ছিল। কায়রাসরাস এবং বেইপিয়াওসরাস প্রজাতি কিছুটা ভারী দেহের অধিকারী ছিল এবং দ্রুত দৌড়াতে পারত না, তবে তাদের কামড় ছিল বেশ শক্তিশালী। অন্যদিকে জিয়ানচাংসরাস প্রজাতি ছিল দ্রুতগামী এবং তারা খাবার গ্রহণের জন্য সামনের পায়ের ওপর বেশি নির্ভর করত।
তবে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটির পেছনের পা জোড়া না থাকায় এবং খুলির কিছু অংশ চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়ায় এর আসল ওজন ও চলাচলের ধরণ নিশ্চিত করতে গবেষকদের আরও বিষদ বিশ্লেষণ করতে হবে।
বিশ্বের সবচেয়ে নিখুঁত 'পারমাণবিক ঘড়ি' তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা
সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা, বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা?