তারেক রহমান-নেতানিয়াহুর করমর্দনের ছবি নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর করমর্দনের দাবি করে তৈরি একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন ভারতীয় সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। তবে ছবিটি বাস্তব নয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা দ্য ডিসেন্ট।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ছবিটি বিশ্লেষণ করে দ্য ডিসেন্ট জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে তারেক রহমান ও নেতানিয়াহুকে করমর্দন বা কুশল বিনিময় করতে দেখা গেলেও এটি কোনো বাস্তব সাক্ষাতের ছবি নয়। ছবিটি AI দিয়ে তৈরি বলে ফ্যাক্ট-চেক সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।

ভারতীয় সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ তাঁর ফেসবুক ওয়ালে ছবিটি শেয়ার করেন। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন—

“Isn't he the Prime Minister of Bangladesh? Wait... cameraman focus, isn't that Israeli Prime Minister Netanyahu? Is that a congratulatory gesture? For what? Bringing the video to YouTube. Wait until morning. Big news!”

বাংলায় যার অর্থ—‘ইনি কি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন? দাঁড়ান... ক্যামেরাম্যান ফোকাস করুন, উনি কি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নন? এটা কি কোনো অভিনন্দনের দৃশ্য? কিসের জন্য? ইউটিউবে ভিডিও নিয়ে আসছি। সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বড় খবর!’

ছবিটি কীভাবে যাচাই করা হলো

দ্য ডিসেন্টের ফ্যাক্ট-চেক অনুযায়ী, ছবিটি বাস্তব কোনো অনুষ্ঠানের আলোকচিত্র নয়। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তারেক রহমান ও নেতানিয়াহুর মুখাবয়ব ও উপস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। ফ্যাক্ট-চেক সংস্থাটি ছবিটিকে AI-generated বা কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবি হিসেবে শনাক্ত করেছে।

বর্তমানে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছবি, ভিডিও ও বক্তব্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি বা সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা রাষ্ট্রপ্রধানকে এমন কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক, করমর্দন কিংবা সমঝোতার দৃশ্যে দেখানো হলে তা দ্রুত বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

তারেক রহমান ও নেতানিয়াহুর কথিত করমর্দনের ছবিটির ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিভ্রান্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাই অনুযায়ী, ছবিটি কোনো বাস্তব সাক্ষাতের প্রমাণ নয়।

ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ছবি বা ভিডিও দেখার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বাস বা শেয়ার না করে উৎস, মূল ছবি এবং নির্ভরযোগ্য ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদন যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন