ইসরায়েলকে হারিয়ে গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালো আইরিশরা

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও গণহত্যার প্রতিবাদে আয়ারল্যান্ডের সমর্থকদের বড় অংশ ম্যাচ বয়কট করলেও মাঠে ৩-০ গোলে ইসরায়েলি দলকে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাঙ্গেরির দেব্রেসেনে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচটি ঘিরে মাঠের বাইরের প্রতিবাদই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

ম্যাচ শুরুর আগে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা কালো বাহুবন্ধনী পরেন। ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত চলার সময় তারা মাথা নত করে থাকেন এবং ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রচলিত করমর্দনও করেননি। তবে মাঠের বাইরের দৃশ্য ছিল আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ম্যাচটি দেখতে অধিকাংশ আইরিশ সমর্থক স্টেডিয়ামে যাননি। ফলে প্রায় ফাঁকা গ্যালারিতে আনুমানিক ১০০ জন ইসরায়েলি সমর্থক এবং অল্প কয়েকজন আইরিশ দর্শককে দেখা যায়।

আয়ারল্যান্ডজুড়ে বিভিন্ন পানশালাও ম্যাচটি সম্প্রচার থেকে বিরত থাকে। ডাবলিনের পিদার ব্রাউনস পানশালার মালিক আইডান ব্রাউন জানান, তিনি আয়ারল্যান্ড ও বিদেশের প্রায় ১৪০টি পানশালা ও বারের একটি তালিকা করেছেন, যারা ম্যাচটি দেখায়নি। তিনি বলেন, ম্যাচের পয়েন্ট এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়; গাজায় গণহত্যা চলার সময় ফুটবলও আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে না।

ডেরিসহ আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকাতেও এই বয়কটের প্রভাব দেখা যায়। আইরিশ স্পোর্ট ফর প্যালেস্টাইনের সভাপতি রেবেকা ও'কিফে বলেন, এটি কেবল রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো উদ্যোগ নয়, বরং ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তার ভাষ্য, আয়ারল্যান্ডের এমন অনেক এলাকাতেও এই অবস্থান পৌঁছেছে, যেখানে আগে এ বিষয়ে তেমন সম্পৃক্ততা ছিল না।

ম্যাচ বয়কটের আহ্বানটি এর আগে আয়ারল্যান্ডের ফুটবল অঙ্গনেও ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিল। ১৬০ জনের বেশি আইরিশ ক্রীড়াবিদ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ডের প্রতি ম্যাচটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। আরেকটি জরিপে দেখা যায়, আয়ারল্যান্ডের ৭৬ শতাংশ ফুটবল সমর্থক ম্যাচটি আয়োজনের বিরোধিতা করেছেন।

বিতর্কের প্রভাব পড়ে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যেও। গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু ম্যাচটি থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি বলেন, নিরপরাধ মানুষ হত্যা করা ভুল, এই ব্যক্তিগত বিশ্বাস থেকেই ইসরায়েলের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচগুলোতে অংশ নেওয়া তার কাছে সঠিক মনে হয়নি।

এরপর ম্যাচটি আদৌ খেলা হবে কি না, তা নিয়ে আইরিশ খেলোয়াড়দের মধ্যে আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড জানায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড় ম্যাচটি খেলার পক্ষে মত দিয়েছেন। এর আগে সংস্থাটি উয়েফা প্রতিযোগিতা থেকে ইসরায়েলকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়ার আবেদন করেছিল। তবে উয়েফা সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

ফলে ৩-০ গোলের জয় পেলেও ম্যাচটির বিতর্ক থামেনি। সমালোচকদের মতে, খেলোয়াড়দের কালো বাহুবন্ধনী কিংবা ম্যাচের আগে নেওয়া প্রতীকী অবস্থান মূল প্রশ্নটি দূর করতে পারেনি, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলার সময়ে আয়ারল্যান্ডের ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামাই উচিত ছিল কি না।

দুই দলের পরবর্তী ম্যাচটি আগামী ৪ অক্টোবর সার্বিয়ার বাক্কা তোপোলায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে হাঙ্গেরিতে আয়ারল্যান্ডের ৩-০ গোলের জয়েই ইসরায়েলকে ঘিরে দেশটির ফুটবল অঙ্গনের বিতর্কের অবসান হচ্ছে না। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালত ও জাতিসংঘের তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে গণহত্যার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই আয়ারল্যান্ডের ইসরায়েল ম্যাচ ঘিরে মাঠের বাইরের প্রতিবাদ আরও বিস্তৃত হয়েছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন