বিমান ছিনতাই চেষ্টায় ইরানের যোগসাজশ খুঁজছেন নেতানিয়াহু

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইটে পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বিমান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার ঘটনায় ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সৌদি আরবে আটক সন্দেহভাজন হামলাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানটি আকস্মিকভাবে ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। এ সময় পাইলটকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে যাত্রী ও ক্রুরা মিলে হামলাকারীকে কাবু করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেন। এরপর বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে।

ছুরিকাঘাতে আহত ভারতীয় নাগরিক পাইলট স্মিত মাচ্ছার বর্তমানে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে। সাহসিকতার জন্য তাকে প্রকৃত বীর হিসেবে প্রশংসা করেছেন নেতানিয়াহু। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও আহত পাইলটের প্রশংসা করেছেন।

নেতানিয়াহু জানান, সৌদি আরবে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন হামলাকারীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। বিমানটি আমিরাতের দুবাই থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। ইরানের কোনো সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনই বলা খুব কঠিন। পাইলটকেও বর্তমানে সৌদি আরবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান প্রসিকিউটর জানান, ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার সময় বিমানে থাকা এক যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন জানান, বিমানটি অকার্যকর করার চেষ্টা করা হামলাকারীকে তিনি ঘাড় চেপে ধরেন। পরে অন্য যাত্রীরাও তাকে চেপে ধরে নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় গুরুতর আহত পাইলট ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন, যার ফলে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে কাবু করার সুযোগ পান।

নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, গুরুতর আহত হওয়ার পরও পাইলট লড়াই চালিয়ে যান এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তার এই সাহসিকতার কারণে আকাশে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় বলেন, চরম বিপদের মুখে গুরুতর আহত হয়েও পাইলট অন্যদের জীবন বাঁচাতে অসীম সাহস ও দৃঢ় সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ ঘটনাটিকে সংগ্রামী মানুষের ঐক্যের এক অনন্য ও বীরত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিবিসি রেডিওর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটি বিশাল এক অলৌকিক ঘটনা এবং অসীম সাহসিকতার পরিচয়। তিনি আহত ভারতীয় পাইলটের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নেতানিয়াহু আরও জানান, ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করা বিমানটির এই ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলের কাছে কোনো আগাম সতর্কতা বা গোয়েন্দা তথ্য ছিল না।

এদিকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, পৃথক তদন্তে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্ত হামলাকারীর বিমানটি ধ্বংস করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তের অংশ হিসেবে বিমানটি তেল আবিবে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।

ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানটি হঠাৎ ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যে জরুরি বার্তা পাঠানো হয় এবং বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা বোঝাতে ৭৫০০ সংকেত পাঠানো হয়।

সংকেত পাঠানোর প্রায় ২০ মিনিট পর বিমানটি সৌদি আরবে অবতরণের জন্য স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে ম্যানুয়ালি নিচে নামতে শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টা পর সেটি আবার ৭৭০০ জরুরি সংকেত পাঠায়। পরে বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে।

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত