মাছ ধরার জাল চুরিকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪৭

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরে মাছ ধরা ও রিং জাল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই ইউপি সদস্যের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৪৭ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসার জন্য সালিশের আয়োজন করা হলেও বৈঠক শুরুর আগেই দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের ইমামনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইমামনগর গ্রামের হাওরে মাছ ধরা এবং রিং জাল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি সদস্য হান্নান মিয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল লতিফের স্বজন ও অনুসারীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাও বিরাজ করছিল।

বিরোধের অবসান ঘটাতে শুক্রবার সকালে স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার কথা ছিল। এ জন্য তারা ইমামনগর গ্রামে উপস্থিতও হন।

তবে সালিশের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই গ্রামের সামনের একটি মাঠে দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হয়ে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের লোকজন দা, বল্লম, টেটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরস্পরের ওপর হামলা চালান।

এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪৭ জন আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সালিশে আসা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ থামানো হয়।

আহতদের কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পুলিশ স্থানীয়দের সতর্ক করে এবং এলাকায় যাতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।

বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসার জন্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি ইমামনগর গ্রামে যান। কিন্তু আলোচনা শুরুর আগেই দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

অষ্টগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত