ট্রাম্পের নিয়োগ করা ‘এআই সম্রাট’ কে?

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা পর্যালোচনায় হোয়াইট হাউসের নতুন উদ্যোগের নেতৃত্ব দিতে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটনকে নিয়োগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে তাকে প্রশাসনের সর্বশেষ ‘এআই সম্রাট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ নামে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত এই টাস্কফোর্সকে ১২০ দিনের মধ্যে হোয়াইট হাউসে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। দ্রুত বিকশিত এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা পর্যালোচনা, জাতীয় নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং এ বিষয়ে মার্কিন সরকারের করণীয় সুপারিশ করা হবে এই প্রতিবেদনে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ক্লেটন এর আগে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন।

ক্লেটন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যাতে উন্নত এআই প্রযুক্তিতে বিশ্ব নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারে এবং একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

টাস্কফোর্সটি এআই-সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস, সাইবার হামলা ও অন্যান্য ঘটনার রিপোর্ট করার জন্য সরকারের বর্তমান ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি বিদ্যমান আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে এসব ঘটনায় সরকারের প্রতিক্রিয়া কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

এআইয়ের নিরাপত্তা, সাইবার হামলা, কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাব এবং ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা এআই ব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম সরকারি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তাঁর যুক্তি, অতিরিক্ত সরকারি বিধিনিষেধ চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা দুর্বল করতে পারে। তাই তাঁর প্রশাসন ব্যাপক বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রণের বদলে উদ্ভাবন, স্বেচ্ছামূলক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রযুক্তি কোম্পানির নিজস্ব নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

চীনের সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার বিষয়টিও এই উদ্যোগে প্রতিফলিত হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক এআই নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতা করার পরিকল্পনা তাঁর নেই। এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার ওপরই তিনি জোর দিয়েছেন।

ক্লেটনের সঙ্গে টাস্কফোর্সের সহ-সভাপতি হিসেবে কাজ করবেন এমিল মাইকেল, স্কট কাপোর ও ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন। সদস্য হিসেবে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস।

বিনিয়োগকারী ডেভিড স্যাকস ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কনডোলিজা রাইসকে এই উদ্যোগে বাইরের উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হবে বলে জানা গেছে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি প্রশাসনজুড়ে এআই নেতৃত্ব দেওয়ার দ্বিতীয় উদ্যোগ। রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে স্যাকস প্রশাসনের ‘এআই সম্রাট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে গিয়ে যাতে প্রযুক্তির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ওয়াশিংটনের বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট এআই নিয়ে মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকির কিছু সতর্কতাকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি মনে করেন, এআইয়ের নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোরই নেওয়া উচিত।

আগামী ১২০ দিনের এই পর্যালোচনায় তাই এআই উদ্ভাবন, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব কীভাবে ধরে রাখা যায়, সেটিই বড় পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

এএম
আরও পড়ুন