রোগীর বদলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে যাতায়াত করে ছাগল!

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

রোগী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ছয়টি ছাগল পরিবহনের ঘটনায় খুলনার মোংলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মোংলা পোর্ট পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল তোলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক মো. শরীফুলের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মোংলা পোর্ট পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সটি খুলনা থেকে রোগী নামিয়ে মোংলার দিকে ফিরছিল। পথে খুলনার জিরো পয়েন্ট এলাকায় ছয়টি ছাগল অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এ সময় ঘটনাটি ভিডিও করেন এক ব্যক্তি। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাগলগুলো মোংলার ব্যবসায়ী মো. রশিদের। তিনি দাবি করেন, চুকনগর থেকে ছাগল কিনে জিরো পয়েন্টে আসার পর সেগুলো মোংলায় নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন পাচ্ছিলেন না। পরে অ্যাম্বুলেন্সটি দেখে সংকেত দিয়ে থামিয়ে ছয়টি ছাগল তাতে তোলেন।

রশিদের দাবি, ছাগল পরিবহনের জন্য তিনি অ্যাম্বুলেন্সচালক শরীফুলকে কোনো টাকা দেননি।

অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. শরীফুলও ছাগল পরিবহনের ঘটনা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহনের ঘটনা এটাই প্রথম এবং এ জন্য তিনি কোনো টাকা নেননি।

তার ভাষ্য, তিনি খুলনা থেকে মোংলায় ফেরার পথে জানতে পারেন, তাঁর পরিচিত রশিদ ছাগল নিয়ে সেখানে আটকা পড়েছেন এবং রাত হওয়ায় কোনো গাড়ি পাচ্ছেন না। অনুরোধ করায় মানবিক কারণে তিনি ছাগলগুলো অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নেন।

তবে অ্যাম্বুলেন্সে পশু পরিবহন করা নিয়মসঙ্গত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শরীফুল নিজেই স্বীকার করেন, এভাবে ছাগল পরিবহন করা ঠিক হয়নি। তিনি জানান, ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ তার গাড়ির চাবি নিয়ে নিয়েছে এবং আপাতত তিনি দায়িত্বে নেই।

এদিকে স্থানীয় সূত্রের বরাতে কয়েকটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, এর আগেও রাতের বেলায় এই অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহন করা হতো। এমনকি টাকার বিনিময়ে চালক শরীফুল নিয়মিত ছাগল পরিবহন করতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তবে চালক শরীফুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ২৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটিই অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহনের প্রথম ঘটনা এবং তিনি এর বিনিময়ে কোনো অর্থ নেননি। ফলে অতীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কি না কিংবা অর্থের বিনিময়ে পশু পরিবহনের অভিযোগের সত্যতা কী—তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে ২ অক্টোবর চালক শরীফুলের কাছ থেকে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি নিয়ে নেওয়া হয়। তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তার সুমী জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোগী পরিবহনের জন্য নির্ধারিত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে পশু পরিবহনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, সরকারি অর্থ ও জনসেবার জন্য পরিচালিত একটি অ্যাম্বুলেন্স কীভাবে রোগী পরিবহনের বাইরে অন্য কাজে ব্যবহৃত হলো?

বিশেষ করে চালকের বিরুদ্ধে অতীতে একই ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সত্য কি না, অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে পৌরসভার নির্ধারিত নিয়ম কী ছিল এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না—এসব বিষয় তদন্তে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

পৌর কর্তৃপক্ষের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত চালকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে নেওয়া এবং তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখার মধ্য দিয়ে ঘটনাটিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের সূচনা হয়েছে।

এমএজেড
আরও পড়ুন