তালেবান নেতাদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রকাশ করলো আইসিসি

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম

আফগানিস্তানে নারী ও মেয়েদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগে চার শীর্ষ তালেবান নেতার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। আদালতের অভিযোগ, তালেবান সরকারের নীতির মাধ্যমে নারী, মেয়ে এবং LGBTQI+ সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

৫ অক্টোবর আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার-২ চারটি পরোয়ানা প্রকাশ করে। এগুলো ২০২৫ সালের জুলাই ও সেপ্টেম্বরে জারি করা হলেও এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল। পরোয়ানাভুক্ত চারজন হলেন—তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা, আফগানিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান আবদুল হাকিম হাক্কানি, শিক্ষামন্ত্রী হাবিবুল্লাহ আগা এবং উচ্চশিক্ষামন্ত্রী নেদা মোহাম্মদ নাদিম।

আইসিসির বিচারকদের মতে, অভিযুক্তরা তালেবানের পক্ষে এমন সরকারি নীতি বাস্তবায়ন করেছেন, যার ফলে আফগান বেসামরিক জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন হয়েছে। এর সঙ্গে হত্যা, কারাবন্দি করা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গুমের মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে।

বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের শিক্ষা, গোপনীয়তা, পারিবারিক জীবন, চলাফেরা, মতপ্রকাশ, চিন্তা, বিবেক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি আদালত উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে তালেবানের লিঙ্গনীতি বা লিঙ্গপরিচয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে বিবেচিত ব্যক্তিদেরও টার্গেট করার অভিযোগ রয়েছে।

২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর মেয়েদের ষষ্ঠ শ্রেণির পর শিক্ষা গ্রহণ এবং নারীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। নারীদের চাকরি ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপরও ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

তবে পরোয়ানা প্রকাশ হলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত কম। কারণ তালেবানই আফগানিস্তানের ক্ষমতায় রয়েছে এবং আইসিসির নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই।

তালেবান আইসিসির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্তৃত্ব স্বীকার করে না এবং তারা ইসলামী শরিয়াহ ও নিজস্ব আদালতের সিদ্ধান্তের অধীন।

আইসিসির এই পদক্ষেপ আফগান নারীদের অধিকার প্রশ্নে তালেবানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে। আদালত জানিয়েছে, পরোয়ানা প্রকাশের ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি অভিযুক্তদের মাধ্যমে আরও অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকি ঠেকাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত