ডিমের দাম দিয়ে সরকারের তিন সিদ্ধান্তের সমালোচনা নাহিদ ইসলামের

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম

ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার জন্য সরকারের তিনটি সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি লেখেন, বর্তমানে একটি ডিমের দাম ১৫ টাকা হওয়া নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাছ-মাংস নিয়মিত কেনার সামর্থ্য না থাকা অনেক পরিবারের কাছে ডিম প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়।

নাহিদ ইসলামের দাবি, শুধু ডিম নয়, চাল, আটা, তেল, চিনি, মুরগি, মাছ ও সবজিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। তাঁর অভিযোগ, মানুষের আয় সেই অনুপাতে না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে তিনি তিনটি কারণের কথা উল্লেখ করেন। প্রথম কারণ হিসেবে বাজেটের কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, মেগা প্রকল্প ও বিভিন্ন ধরনের কার্ডের জন্য বড় আকারের বাজেট করা হয়েছে। তাঁর মতে, ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ বা তাদের ওপর কর বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে বাড়তি অর্থের চাপ শেষ পর্যন্ত ভ্যাট, ঋণ কিংবা অর্থ সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে তৈরি হতে পারে। এসব ব্যবস্থার ফলে পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর বক্তব্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়লে সেচ, পোলট্রি, মাছ চাষ, হিমাগার, পরিবহন ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয় বাড়ে। পরে সেই বাড়তি খরচের প্রভাব পড়ে ভোক্তার ওপর।

তৃতীয় কারণ হিসেবে তিনি সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজির কথা উল্লেখ করেন। নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, এসব কারণে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় বেশি দামে সাধারণ মানুষকে পণ্য কিনতে হচ্ছে।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এসব পরিবারের আয়ের বড় অংশই মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় সামান্য বাড়লেও তাদের সামনে প্রয়োজনীয় কোনো পণ্য কেনা বাদ দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প নীতির সুযোগ ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপির নির্বাচনি ইশতেহার ও ছায়া বাজেটে ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ, অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্প কমানো, মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ হ্রাস এবং নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানিতে বাড়তি ভর্তুকির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে তাঁর অভিযোগ, সরকার এসব বিকল্প পথে না গিয়ে এমন নীতি গ্রহণ করেছে, যার সুবিধা বড় ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী পেতে পারে। একই সময়ে সাধারণ নিম্নবিত্ত পরিবারকে বাড়তি মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টের শেষাংশে নাহিদ ইসলাম ডিমের দামের উদাহরণ টেনে নিম্নবিত্ত পরিবারের সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, একদিকে বড় প্রকল্প ও বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ নিয়ে প্রচার হচ্ছে, অন্যদিকে অনেক পরিবারকে বাড়তি দামে কেনা একটি ডিম ভাগ করে সন্তানদের খাওয়ানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত