উপজেলাভিত্তিক লটারির পরিবর্তে ইউনিয়ন বা ক্লাস্টারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে পদায়নের দাবি জানিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক-২০২৫ ব্যাচের প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষক। একই সঙ্গে পদায়ন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের দাবির কথা জানান নবনিয়োগপ্রাপ্ত এসব শিক্ষক। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া দাবিতে তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে তারা কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় লটারির মাধ্যমে বিদ্যালয় নির্ধারণ করে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি জেলায় উপজেলাভিত্তিক লটারির মাধ্যমে পদায়ন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
শিক্ষকদের ভাষ্য, একটি উপজেলার সব বিদ্যালয়কে নিয়ে একসঙ্গে লটারি হলে একই উপজেলার বাসিন্দা হয়েও কাউকে বাড়ি থেকে অনেক দূরের বিদ্যালয়ে পদায়ন পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে দৈনন্দিন যাতায়াতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নারী শিক্ষকদের জন্য বিশেষ ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পদায়ন নানা বাস্তব সমস্যার সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন তারা।
নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়ার অন্যতম কারণ নিজের এলাকার কাছাকাছি বিদ্যালয়ে কাজ করার সুযোগ। তাই নারী, বিবাহিত ও দুর্গম এলাকার প্রার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পদায়ন ব্যবস্থা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
তাদের প্রস্তাব, একটি উপজেলার সব বিদ্যালয়কে একই ইউনিট হিসেবে না ধরে ইউনিয়ন অথবা ক্লাস্টারভিত্তিক লটারির ব্যবস্থা করা হোক। এতে শিক্ষকদের তুলনামূলকভাবে নিজ এলাকার কাছাকাছি বিদ্যালয়ে পদায়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা মনে করেন।
পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য লটারির আগে প্রতিটি বিদ্যালয়ের শূন্যপদের সংখ্যা প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে লটারি কীভাবে পরিচালিত হবে, কোন পদ্ধতিতে শিক্ষক নির্বাচন করা হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ার ধাপগুলো কী—এসব তথ্য সবার সামনে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
লটারির সময় প্রার্থীদের সরাসরি উপস্থিত থাকার সুযোগ দেওয়ার দাবিও রয়েছে। সম্ভব হলে শিক্ষক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে উন্মুক্তভাবে লটারি আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। এতে পদায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় বা প্রশ্ন তৈরি হবে না বলে মনে করেন নবনিয়োগপ্রাপ্তরা।
দুর্গম, হাওর, চর ও প্রত্যন্ত এলাকার বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন শিক্ষকরা। বিশেষ করে নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জসহ হাওর ও দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষকদের পাশাপাশি যেসব এলাকায় যাতায়াতব্যবস্থা সীমিত, সেসব এলাকার বাস্তবতাও পদায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নারী শিক্ষকদের নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত কর্মস্থল নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দিয়েছেন তারা। প্রতিদিন দূরের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নারী শিক্ষকদের যেসব অতিরিক্ত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, পদায়ন নীতিতে সেগুলো বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বলেন, তারা কোনো অনিয়ম বা ব্যক্তিগত সুবিধা চান না। তাদের প্রত্যাশা হলো একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য, মানবিক ও বাস্তবসম্মত পদায়ন ব্যবস্থা।
তাদের দাবি, উপজেলা নয়, ইউনিয়ন বা ক্লাস্টারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে পদায়ন করতে হবে এবং পুরো লটারি প্রক্রিয়া সবার সামনে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের এসব দাবি ও সম্ভাব্য ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ২০২৫ ব্যাচের শিক্ষকরা।
ডিমের দাম দিয়ে সরকারের তিন সিদ্ধান্তের সমালোচনা নাহিদ ইসলামের
নতুন শঙ্কায় বিশ্ববাজারে বাড়লো তেলের দাম
উত্তরাখণ্ডে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো দিল্লিও