‘সব দাবি মানো, নয়তো অস্তিত্ব থাকবে না’ ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩২ এএম

ইরান ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সব দাবি মেনে নিতে হবে, অন্যথায় দেশটির অস্তিত্বই বিপন্ন হতে পারে।

শুক্রবার নিউইয়র্কের সিরাকিউজে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরান ও রাশিয়া-ইউক্রেন—এই দুই সংঘাতের সমাধান অথবা বিজয় অর্জনের পথে তাঁর প্রশাসন এগোচ্ছে। তাঁর দাবি, সংঘাতগুলোর নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘একভাবে হোক বা অন্যভাবে, এটি খুব দ্রুত শেষ হবে।’ এরপর তেহরানের উদ্দেশে আরও কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘হয় তারা আমাদের সবকিছু দেবে, নয়তো তাদের আর অস্তিত্ব থাকবে না।’ তাঁর এই বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি দেননি। খবর: দ্য গার্ডিয়ান ও ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি আবারও সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। ফলে তাঁর ঘোষণাকে যুদ্ধ বন্ধের নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আলোচনার অগ্রগতি, ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান—সবকিছুই পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।


ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার কথা বলে আসছেন। তাঁর প্রশাসন তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা নিয়ে চাপ অব্যাহত রেখেছে।

অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি অব্যাহত থাকায় সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

সমাবেশে ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেরও দ্রুত নিষ্পত্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে কী শর্তে যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা কতটা এগিয়েছে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য দেননি।

বিশ্লেষকদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ট্রাম্পের বক্তব্য বাস্তব কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রতিফলন, নাকি প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরির কৌশল। দুই যুদ্ধের ক্ষেত্রেই বাস্তব পরিস্থিতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সিদ্ধান্ত, আলোচনার অগ্রগতি এবং সামরিক পদক্ষেপের ওপর।

ট্রাম্প দ্রুত সমাধানের কথা বললেও ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর অস্তিত্বসংক্রান্ত হুঁশিয়ারি সংঘাতের ঝুঁকি সামনে এনেছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

এমএজেড
আরও পড়ুন