শীত আসছে, গাজায় আশ্রয়হীন প্রায় ২০ লাখ মানুষ: আইওএম

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আশ্রয় সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সতর্ক করে জানিয়েছে, গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষেরই জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয় সহায়তা প্রয়োজন। অথচ শীত মোকাবিলায় চিহ্নিত মোট চাহিদার মাত্র ১৭ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

বছরের পর বছর বাস্তুচ্যুতি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর গাজার ফিলিস্তিনিরা আবারও এমন এক শীতের মুখোমুখি হচ্ছেন, যখন বৃষ্টি, তীব্র ঠান্ডা ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা থেকে সুরক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। আইওএম বলছে, অর্থায়নের তীব্র সংকট এবং জরুরি ত্রাণসামগ্রী প্রবেশে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আরোপিত বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, “যেসব পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুতি ও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে গেছে, তাদের অবশ্যই নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে শীতকাল পার করার সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনীয় আশ্রয়সামগ্রী দ্রুত, নিয়মিত এবং চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রবেশ করতে দিতে হবে।”

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, মানবিক সহায়তাকারী অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে তারা প্রায় ১৮ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষকে শনাক্ত করেছে, যাঁরা বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় বসবাস করছেন। ভারী বৃষ্টিতে এসব এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দিলে অবশিষ্ট আশ্রয়স্থলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নষ্ট হতে পারে পরিবারগুলোর শেষ সম্বলটুকুও। এতে মানুষকে আবারও ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হতে হতে পারে।

গাজায় দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতি, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়ের অভাবের মধ্যে আসন্ন শীত নতুন মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে। প্রয়োজনীয় আশ্রয়সামগ্রী ও ত্রাণ দ্রুত পৌঁছানো না গেলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন বাস্তুচ্যুত পরিবার, শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং অন্যান্য অসহায় জনগোষ্ঠী।

এমএজেড
আরও পড়ুন