গোলপাতার ঘরে বিনা মূল্যে চিকিৎসা!

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

বাগেরহাটের রামপালে সুন্দরবনের ঐতিহ্যবাহী গোলপাতা দিয়ে তৈরি ঘরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিনা মূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ‘আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর উদ্যোগে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে গড়ে তোলা হয়েছে এমন ১০টি গোলপাতার ঘর। এসব কেন্দ্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যতথ্য সংগ্রহ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

উদ্যোক্তারা জানান, গোলপাতার ঘরগুলোতে ‘সেবাবন্ধু’ নামে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সহায়তা করছেন। পরীক্ষায় কোনো ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে তাঁকে উপযুক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়। প্রয়োজনে অনলাইনে বিদেশি চিকিৎসকদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

রোগীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে নিজস্ব ইলেকট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড (ইএমআর) ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্য নথিভুক্ত করা এবং রোগের ঝুঁকি শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে। উদ্যোগটির লক্ষ্য, অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি রোগের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে অনেকেই দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানোর সুযোগ পেতেন না। ফলে তাঁদের অজান্তেই রোগের ঝুঁকি বাড়ছিল। এখন বাড়ির কাছাকাছি গোলপাতার ঘরে নিয়মিত পরীক্ষা ও পরামর্শ পাওয়ায় তাঁরা স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রেজা সেলিম বলেন, “অসুখ হলে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি অসুখ প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তাঁরা কাজ করছেন।

কার্যক্রমটি পরিদর্শন ও এ উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের গ্রামের স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রমে তিনি অভিভূত। তাঁর ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি যে স্বপ্ন নিয়ে কাজ শুরু করেছে, তা এখন বাস্তব রূপ পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, উন্নতমানের যন্ত্রপাতি এবং অনলাইনে বিদেশি চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও গড়ে তোলা গেলে প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান আরও প্রতিষ্ঠায় সরকার উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রামপালের গোলপাতার ঘরভিত্তিক এ উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যন্ত ও উপকূলীয় এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে এ ধরনের কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এমএজেড
আরও পড়ুন