ইরানের পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার হুমকি, ইসলামির নিন্দা

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

ইরানের পরমাণু স্থাপনায় কৌশলগত এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে হামলার মার্কিন হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি। তিনি বলেছেন, যত হুমকিই দেওয়া হোক, ইরানি জনগণ কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। জাতিসংঘের মঞ্চ থেকেও এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) ‘পরিবেশবিধ্বংসী অপরাধ: নীরব যুদ্ধাপরাধ’ শীর্ষক এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইসলামি এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, শত্রুপক্ষের হামলার জবাবে ইরানি যোদ্ধারা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে প্রতিপক্ষের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করে ইরানি বাহিনী কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো থেকে বিরত থাকে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে প্রতিপক্ষের মিথ্যা প্রচার ও বিভ্রান্তিকর বয়ানেরও সমালোচনা করেন ইসলামি। তার অভিযোগ, ইরানের পরমাণু শিল্পকে ঘিরে অপপ্রচার অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের অভিযোগ তোলেন। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্বৈত নীতির চর্চা এখন সবার কাছে স্পষ্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তদারকি ও সুরক্ষাব্যবস্থার আওতায় থাকা ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে হামলার বিষয়টি তুলে ধরে ইসলামি প্রশ্ন করেন, এসব হামলার নিন্দা জানাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি ব্যর্থ হলো কেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলাকালে এমন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যেগুলো ধ্বংস হলে মানুষ ও পরিবেশের ওপর বিপর্যয়কর প্রভাব পড়তে পারে। অথচ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে কার্যকর প্রতিবাদ দেখা যায়নি।

ইসলামি আরও বলেন, সাম্প্রতিক হামলা শুধু ইরানের পরমাণু স্থাপনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশটির তেল শোধনাগার, পেট্রোরসায়ন কমপ্লেক্স এবং পরমাণু শক্তি সংস্থার অধীন বিকিরণকেন্দ্রের মতো অ-পরমাণু স্থাপনাও হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব কেন্দ্র স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্যনিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তার মতে, বিকিরণ উৎস ব্যবহার করে পরিমাপ, নিরাপত্তা প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদন পর্যবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত কেন্দ্রগুলোতে হামলা মানুষের জীবন, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারের প্রতি হামলাকারীদের অবজ্ঞারই বহিঃপ্রকাশ।

সবশেষে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় কৌশলগত অস্ত্র, এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন ইসলামি। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইরানের সভ্যতা ধ্বংসের যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিও উদ্বেগজনক। এসব হুমকির জবাবে ইরানি জনগণ কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত