রাশিয়ার ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। হামলায় রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার কয়েক দিন পর এ হামলার ঘটনা ঘটলো।
বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের বরাতে বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের যোগাযোগ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘ব্যাপক’ হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
টেলিগ্রামে তিনি বলেন, কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। ইউক্রেনের বৃহত্তম বেসরকারি জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে জানিয়েছে, হামলার কারণে কিয়েভের কয়েকটি নগর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে হয়েছে।
ইউক্রেনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর দেসনিয়ানস্কি জেলায় একটি বহুতল ভবনে রুশ হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। গোলসিভস্কি জেলায় আরেকটি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন একজন। এছাড়া ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় দুজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে নিহত হয়েছেন আরও একজন। খারকিভ ও জিতোমির অঞ্চলেও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সুমি ও চেরনিহিভ অঞ্চলেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় সূত্র।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, কিয়েভে রুশ হামলার আগে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পায়নি তার দেশ। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের দিকে আসার বিষয়ে অংশীদারদের কাছ থেকে আগাম সতর্কতা না পাওয়া অন্যায্য। তার দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাজধানীর কাছাকাছি পৌঁছানোর পরই ইউক্রেন সেগুলো শনাক্ত করতে পেরেছিল।
জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘন করেছে রাশিয়া। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো এ হামলা যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত স্থাপনাগুলোর ওপরই আঘাত। হামলার ব্যাপকতাকে ইচ্ছাকৃত ও প্রদর্শনমূলক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জেলেনস্কির দাবি, এ হামলার মাধ্যমে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা দেখিয়েছে।
ট্রাম্পের ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ ঘিরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখার উদ্যোগের পরও কিয়েভ ও অন্যান্য অঞ্চলে হামলার ঘটনা যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে যুদ্ধবিরতির সুনির্দিষ্ট শর্ত, দুই পক্ষের সম্মতি এবং হামলাটি চুক্তির আওতায় পড়ে কি-না এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।
যুদ্ধকালীন অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী-আইআরজিসি প্রধানের বৈঠক
ইরানসহ চার দেশের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতায় কমলা হ্যারিসের উদ্বেগ
গাজায় বিমান হামলায় হামাসের সামরিক কমান্ডার নিহত