ইরানের পক্ষ নিলে লেবাননের আরও ভূখণ্ড দখলের হুমকি ইসরায়েলের

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধে হিজবুল্লাহ যোগ দিলে দক্ষিণ লেবাননের আরও ভূখণ্ড দখল করে সেখানে স্থায়ী নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তোলার হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন বাফার জোন পরিদর্শনের সময় তিনি এ হুমকি দেন। একই সঙ্গে লেবাননে স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কাৎজ বলেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দেয়, তাহলে সংগঠনটিকে বড় ধরনের আঘাতের মুখে পড়তে হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ ও লিতানি নদীসংলগ্ন এলাকায় আরও ভূখণ্ড হারাতে হবে। তাঁর ভাষায়, এসব এলাকা ইসরায়েলের স্থায়ী নিরাপত্তা অঞ্চলের অংশ হয়ে যাবে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশটির সামরিক বাহিনী স্থল অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠের দাহিয়েহ এলাকার কথাও উল্লেখ করেন। কাৎজের হুমকি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ যুদ্ধে যোগ দিলে ওই এলাকাও খালি করে দেওয়া হবে এবং সেখানে সংগঠনটির কথিত সন্ত্রাসী অবকাঠামোয় হামলা চালানো হবে।

এমন পরিস্থিতিতে লেবাননের ১০ লাখেরও বেশি শিয়া মুসলিম বাস্তুচ্যুত হতে পারেন বলেও হুমকি দেন কাৎজ। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গে তিনি সংগঠনটির সাবেক নেতা হাসান নাসরাল্লাহ এবং বর্তমান নেতা নাইম কাসেমের নামও উল্লেখ করেন।

কাৎজ বলেন, নাসরাল্লাহ নিহত হওয়ার আগে লেবাননের শিয়া সম্প্রদায়কে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, নাইম কাসেমও একই পথে এগোলে পুরো সম্প্রদায়কে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে ফেলতে পারেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনিও নিহত হবেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যে হিজবুল্লাহর পাশাপাশি লেবাননের শিয়া জনগোষ্ঠীর ওপরও সম্ভাব্য পরিণতির হুমকি উঠে এসেছে।

এদিকে, মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কাৎজ। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান ও তাদের মিত্ররা হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে।

কাৎজ বলেন, ইরানের নেতৃত্বাধীন শত্রুপক্ষ এবং তাদের কথিত মিত্রদের নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন হামলার চেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের হামলার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা, লক্ষ্যবস্তু কিংবা সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে হিজবুল্লাহর অংশগ্রহণ ঠেকানোর হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে আরও ভূখণ্ড দখল এবং বৈরুতের জনবহুল এলাকায় সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের পাশাপাশি বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠের বিপুলসংখ্যক মানুষও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তবে এসব হুমকির বিষয়ে হিজবুল্লাহ বা লেবাননের কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত