ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস

জগন্নাথ হলের সেই ভয়াল কালরাত আজ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৬ এএম

আজ ১৫ অক্টোবর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির ৪১ বছর। ১৯৮৫ সালের এই দিনে জগন্নাথ হলের তৎকালীন একটি ভবনের টেলিভিশন কক্ষের ছাদ ধসে মারা যান ৪০ জন। সেই থেকে প্রতিবছর এই দিনটিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এবছরও গ্রহণ করা হয়েছে নানা কর্মসূচি।

১৯৮৫ সালের এই দিনটি ছিল বৃষ্টিস্নাত। আকাশ থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ঝরছিল, চারদিকে অন্ধকার। সারা দিনের ক্লান্তি শেষে জগন্নাথ হলে ফিরেন শিক্ষার্থীরা। কেউ বই নিয়ে পড়ছেন, কেউ রাতের খাবারে ব্যস্ত, আবার কেউ টিভি রুমে বসেছেন ‘শুকতারা’ নাটক দেখার অপেক্ষায়। রাত তখন ৮টা কিংবা সাড়ে ৮টা। হঠাত্ এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে জগন্নাথ হল। মুহূর্তেই থমকে যায় সবকিছু। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, ভেসে আসে শিক্ষার্থীদের আর্তনাদ। কান্না আর হাহাকারে ভারী হয়ে ওঠে হলের পরিবেশ। চার দশক পেরিয়েও সেই ভয়াল রাতের স্মৃতি তাড়া করে ফেরে অনেককে।

জগন্নাথ হলের অ্যাসেম্বলি হাউজ ভবনের অডিটোরিয়ামটি তখন ব্যবহূত হতো টিভি রুম হিসেবে। চুন-সুরকিতে নির্মিত ভবনটির ছাদ আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবু জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শুকতারা’ দেখতে সেদিনও সেখানে জড়ো হয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। সাদা-কালো টিভির সময়ে হলের একমাত্র রঙিন টেলিভিশনটি ছিল তাদের বাড়তি আকর্ষণ। নাটক চলছিল, বাইরে ঝরছিল বৃষ্টি। বৃষ্টির পানিতে ক্রমেই ভিজে দুর্বল হয়ে পড়ছিল ছাদের চুন-সুরকির কাঠামো। এরই মধ্যে হঠাত্ ধসে পড়ে পুরো ছাদ। মুহূর্তেই আনন্দমুখর অডিটোরিয়াম পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন শতাধিক শিক্ষার্থী।

সেই রাতেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৫টি মরদেহ। আহতদের উদ্ধার ও সেবা করতে গিয়ে প্রাণ হারান হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্তিপ্রিয় চাকমা। পরে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান আরো চার শিক্ষার্থী। সব মিলিয়ে প্রাণ হারান ৪০ জন, আহত হন তিন শতাধিক মানুষ। এক মুহূর্তের সেই বিপর্যয় শোকে স্তব্ধ করে দেয় পুরো দেশকে। নিহতদের মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী এবং ১৪ জন অতিথি ও কর্মচারী ছিলেন।

নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর শোক দিবস পালন করে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছুটি থাকে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শোক দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান ভবন, সব হল এবং হোস্টেলে কালো পতাকা উত্তোলন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো ব্যাজ ধারণ করা হবে। সকাল সাড়ে ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোক র্যালি সহকারে জগন্নাথ হল স্মৃতিসৌধে গমন, পুস্পস্তবক অর্পণ এবং নীরবতা পালন করা হবে। এছাড়াও সকাল ৮টায় অক্টোবর স্মৃতি ভবনের টিভি কক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সভা হবে। এ ছাড়া বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআসহ সব হল মসজিদে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হবে।

জেএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত