ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব ভ্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে অন্তত সাতটি দেশ। দেশগুলো হলো—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এসব দেশের সতর্কতায় সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চল, বিমানবন্দর এবং ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া সংবাদ ও সরকারি ভ্রমণ নির্দেশনার ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। তবে সব দেশ সৌদি আরবের পুরো ভূখণ্ডে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেনি। কোনো দেশ অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলেছে, কোনো দেশ নির্দিষ্ট অঞ্চল বা বিমানবন্দরে যাতায়াত সীমিত করেছে। আবার ইয়েমেন সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় সব ধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
কোন দেশ কী ধরনের সতর্কতা দিয়েছে?
১. যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ১২ অক্টোবর সৌদি আরবের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে। নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরব ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। ইরান ও ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কাও সতর্কবার্তায় গুরুত্ব পেয়েছে।
২. যুক্তরাজ্য
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর ইয়েমেন সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি আসির, রিয়াদ, নাজরান ও জিজান প্রদেশ এবং জেদ্দা ও দাম্মাম শহরে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করতে বলা হয়েছে। মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত না করার নির্দেশনাও রয়েছে।
৩. কানাডা
কানাডা সরকার সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে আসির, জিজান ও নাজরান প্রদেশ এবং ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আরও কঠোর সতর্কতা জারি রয়েছে।
৪. অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে ভ্রমণের প্রয়োজন পুনর্বিবেচনা করতে নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাতায়াত এড়িয়ে চলা এবং অন্যান্য বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। ইয়েমেন সীমান্তবর্তী কয়েকটি প্রদেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনাও রয়েছে।
৫. নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর এবং নাজরান, জিজান ও আসির প্রদেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। সৌদি আরবের অন্যান্য অঞ্চলেও অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
৬. জাপান
১৪ অক্টোবর জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকার ভ্রমণ সতর্কতা প্রথম স্তর থেকে দ্বিতীয় স্তরে উন্নীত করে। এর ফলে দেশটির পুরো সৌদি আরবের জন্য অন্তত দ্বিতীয় স্তরের সতর্কতা কার্যকর হয়েছে। এ স্তরে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে বলা হয়। ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতার মাত্রা আরও বেশি।
জাপানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ৫ অক্টোবর থেকে হুথি হামলা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা এবং হতাহতের খবরও সতর্কতা জোরদারের প্রেক্ষাপট হিসেবে এসেছে।
৭. দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়া সৌদি আরবে অবস্থানরত নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজন না থাকলে দেশটি ছেড়ে যাওয়ার এবং পরিকল্পিত সফর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের জন্য দেশটির ভ্রমণ সতর্কতা তৃতীয় স্তরে উন্নীত করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
বিমান চলাচল ও ভ্রমণে বাড়ছে উদ্বেগ
হুথি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা সৌদি আরবের বিমান চলাচল, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো সতর্কতার কেন্দ্রে রয়েছে।
তবে সাত দেশের নির্দেশনা এক নয়। ভ্রমণ সতর্কতা মানেই সৌদি আরবে সবার প্রবেশ নিষিদ্ধ—এমন নয়। সতর্কতার মাত্রা, নির্দিষ্ট এলাকা এবং ভ্রমণকারীদের জন্য প্রযোজ্য বিধিনিষেধ সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি নির্দেশনায় আলাদাভাবে উল্লেখ থাকে।
সৌদি আরব ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের যাত্রার আগে নিজ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা, বিমান সংস্থার ফ্লাইট-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এবং গন্তব্য এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করা উচিত।
সৌদি-হুথি সংঘাতের নেপথ্যে কী?
ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের