লা লিগায় লাল কার্ড দেখার ঘটনায় চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ফলে চলতি মাসে বার্সেলোনার বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত এল ক্লাসিকোতে খেলা হচ্ছে না তাঁর।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি ভিনিসিয়ুসের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করে। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখার ঘটনায় তাঁকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
কেন এত বড় শাস্তি পেলেন ভিনিসিয়ুস? শনিবারের ওই ম্যাচে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় নাথান সালিবার চুল টেনে ধরেছিলেন তিনি। এ ঘটনার জন্য তাঁকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়। আর রেফারির লাল কার্ডের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানোয় আরও দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এমনিতেই চলতি মৌসুমটা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না ভিনিসিয়ুসের। ক্লাবের হয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল করেছেন তিনি। এ কারণে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে শুরুর একাদশে রাখেননি কোচ। তবে ৫২ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৭৩ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চান তিনি।
চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার খবরটি ভিনিসিয়ুস পান বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে। এই শাস্তির কারণে লা লিগায় সেভিয়া, বার্সেলোনা, রেসিং সান্তান্দার ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না তিনি।
নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভিনিসিয়ুস। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে সহিংস আচরণ করেননি তিনি।
ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার জন্য তাদের হাতে সারা দিন সময় ছিল। অথচ আমরা যখন স্টেডিয়ামে পৌঁছালাম, ঠিক তখনই আমাকে জানানো হলো, লিগের পরের চার ম্যাচে আমি খেলতে পারব না।’
ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘চুল টেনে ধরার বিষয়টি নিয়ে আমাদের কখনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। লা লিগা ও রেফারিদের সংগঠনের কেউ নিয়মকানুন বোঝাতে আসেন, কিন্তু এই নির্দিষ্ট বিষয়টি নিয়ে কখনো কিছু বলেননি। আমার ক্ষেত্রে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, ব্যস এটাই। আমি কখনো অন্য কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে সহিংস আচরণ করিনি। অন্যরা আমাকে অনেক আঘাত করে, অথচ শেষ পর্যন্ত কার্ড দেখতে হয় আমাকেই।’
নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনিওও। তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা কমিটির কাছে প্রশ্ন হলো, তারা ঠিক এই সময়েই কেন শাস্তির ঘোষণা দিল? আপনি যদি এই প্রশ্ন করেন, তার মানে আপনি মনে করছেন, এটি ভিনিসিয়ুসের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তা না হলে আমাকে এই প্রশ্ন করতেন না।’
মরিনিও আরও বলেন, ‘তাদের জিজ্ঞেস করা উচিত, আজ সকালে কিংবা আগামীকাল সকালে কেন এই ঘোষণা দেওয়া হলো না? রিয়াল মাদ্রিদের গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে কেন এটি ঘোষণা করা হলো? ভুলে গেলে চলবে না, রিয়াল মাদ্রিদ স্পেনেরই একটি ক্লাব।’
তবে ভিনিসিয়ুসের এই নিষেধাজ্ঞা শুধু স্পেনের ঘরোয়া প্রতিযোগিতার জন্য প্রযোজ্য। চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে তাঁর কোনো বাধা নেই। এ কারণে লা লিগার নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরও বুধবার রোমার বিপক্ষে মাঠে নামতে পেরেছেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে সন্তুষ্ট সংসদীয় কমিটি
সরকারি বাসা বরাদ্দে অনলাইন সেবা চালু, আবেদন ৫৯৬টি
যুক্তরাষ্ট্রকে নতি স্বীকারে বাধ্য করবে ইরান: গালিবাফ