আরামকোর দাহরান সদর দপ্তর খালি করার নির্দেশ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো তাদের দাহরান সদর দপ্তরের কর্মীদের ভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে এবং দূর থেকে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এই নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম আরামকোর দাহরান সদর দপ্তর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলো। তবে ঠিক কী কারণে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে আরামকো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

রয়টার্সকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছয়টি সূত্র জানিয়েছে, অক্টোবরের শুরুতে হামলায় আরামকোর দাহরান সদর দপ্তরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভবনটির কয়েকটি তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল বলে প্রত্যক্ষভাবে বিষয়টি জানা তিনটি সূত্র জানিয়েছে।

সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় অবশ্য ওই হামলায় সীমিত অগ্নিকাণ্ডের কথা জানিয়েছিল। আরামকোর সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাকেন্দ্র রয়েছে। সেখান থেকে স্থল ও সমুদ্রের তেলক্ষেত্র, শোধনাগার, রপ্তানি টার্মিনাল এবং হাজার হাজার কিলোমিটার পাইপলাইনের কার্যক্রম তদারক করা হয়।

এ কারণে সদর দপ্তরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ শুধু কোম্পানিটির প্রশাসনিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

দাহরানের কাছাকাছি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় তেলকেন্দ্র দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুইজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন বলে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বিমানবন্দরটি দাহরান থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। একই সময়ে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, আরামকোর শায়বাহ তেলক্ষেত্রে একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা ড্রোন সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করার পর সৃষ্ট ঘটনায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন।

একের পর এক হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

ইয়েমেনভিত্তিক হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছে।

অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং সৌদি ভূখণ্ডে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।

হুথিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাত তীব্র হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব তাদের সামরিক অভিযানে মিত্রদের কাছ থেকে বাড়তি সহায়তা চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে যোগ দিতে এখন পর্যন্ত অনাগ্রহ দেখিয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে দায়িত্ব পালনরত কিছু কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ সৌদি আরবে মার্কিন কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে নির্দেশটি সব কূটনীতিকের জন্য নয়; প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কিছু কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও পরিবহন অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেবের নিরাপত্তা নিয়েও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের ২৩ অক্টোবরের পৃথক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৪ দশমিক ৭২ ডলারে উঠেছিল, যা ৪ মে-র পর সর্বোচ্চ। পরবর্তী লেনদেনে দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৪ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়ায়।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের উৎপাদন বা রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

এমইউ
আরও পড়ুন