ইসরায়েলের নির্বাচনে ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে আরব দলগুলো

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালের হিসাব অনুযায়ী, আরব দলগুলোর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১৩টি এবং রা’আম ছয়টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫৪ এবং বিরোধী জোটের ৪৭। কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় আরব দলগুলোর অবস্থান সরকার গঠনের হিসাবকে আরও জটিল করে তুলেছে।

নির্বাচন কমিটির হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেতে পারে। এ ছাড়া ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, শাস ও ওতজমা ইয়েহুদিত, প্রতিটি দল সাতটি করে আসন পেতে পারে। রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টির সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ছয়টি।

বিরোধী শিবিরের মধ্যে গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ২১টি আসন পেতে পারে। নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন বি’ইয়াখাদ পেতে পারে ১১টি আসন। ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টির সম্ভাব্য আসন আটটি এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনুর সাতটি।

তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো জোটেরই নিশ্চিত নয়। নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও ক্ষীণ। আইজেনকোট নেতানিয়াহুর অধীনে সরকারে যোগ দেওয়া, এমনকি পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রিত্বের ব্যবস্থাতেও অংশ নেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। বিরোধী শিবিরের অন্য নেতারাও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বিরোধী জোটের সবচেয়ে বড় দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী করার প্রস্তাব দিয়েছেন আইজেনকোট। তবে এ বিষয়ে জোটের ভেতরে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে। কিন্তু আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরতা নিয়ে বিরোধী শিবিরের একাংশের আপত্তি এ পথেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। শেষ পর্যন্ত জোট গঠনের আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপে কোনো পক্ষকেই স্পষ্ট বিজয়ী হিসেবে দেখা যায়নি। তখন নেতানিয়াহুর জোট ও তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাওয়া বিরোধী জোট, দুই পক্ষেরই আসনসংখ্যা ৬১-এর নিচে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে বুধবার সকালের কিছু জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৫৩ থেকে ৫৭-এর মধ্যে দেখানো হয়। আগের নির্বাচনে বুথফেরত জরিপের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলের পার্থক্য থাকায় আনুষ্ঠানিক গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত ফল জানা যাবে না।

নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশে, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। তবে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে বাধা হতে পারে ডানপন্থী ছোট দলগুলোর নির্বাচনী ফল। দুটি ছোট দল, পিপল অব ইসরায়েল ও দ্য রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি, নির্বাচনী সীমা ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের নিচে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বুথফেরত জরিপ প্রকাশের পর বিরোধী নেতারা নিজেদের জোটকে বিজয়ী দাবি করেন। আইজেনকোট বলেন, ভোটাররা নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন এবং আবার নির্বাচন আয়োজন করা ভুল হবে। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন রাজনৈতিক স্বার্থে জাতীয় নিরাপত্তাকে ব্যবহার করতে না পারেন, সে বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকতে হবে।

বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদও নেতানিয়াহুর জোটকে পরাজিত দাবি করে বলেন, জনগণ বর্তমান সরকারকে সরে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান বলেন, নতুন সরকার গঠনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং তার দল অন্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোটের নেতারা চূড়ান্ত ফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। ওতজমা ইয়েহুদিতের নেতা ইতামার বেন-গভির আইজেনকোটের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার সময় ইসরায়েলের ক্ষমতায় ছিল নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকার। পরবর্তী সময়ে বিরোধী শিবির নেতানিয়াহুকে ওই হামলার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছে। তারা রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছে। নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী; সব মেয়াদ মিলিয়ে তিনি ১৯ বছরেরও বেশি সময় এ পদে রয়েছেন। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

এএস
আরও পড়ুন