তেহরান সম্মেলন, পানি নাকি মরীচিকা?: শরিয়ত মাদারি 

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

ইরানের কট্টরপন্থী সংবাদপত্র কায়হানের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হোসেইন শরিয়ত মাদারি তেহরানে চার দেশের সাম্প্রতিক বৈঠকের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ‘তেহরান সম্মেলন: পানি, নাকি মরীচিকা?’ শিরোনামের এক মন্তব্যে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগের আড়ালে ইরানের ওপর ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের সঙ্গে সম্পর্ক কমানোর চাপ তৈরি হতে পারে।

তেহরানে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মতির কথা জানানো হলেও ইয়েমেনসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকট নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তির ঘোষণা আসেনি।

শরিয়ত মাদারির আশঙ্কা, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে গেলে তেহরানকে হুথিদের থেকে দূরত্ব তৈরির জন্য চাপ দেওয়া হতে পারে। তবে ইরানের এই কট্টরপন্থী ভাষ্যকার জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরানের হুথিদের পরিত্যাগ করা উচিত হবে না।

ইয়েমেন প্রশ্নে সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং হুথিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সৌদি আরব হুথিদের হামলা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চায়। অন্যদিকে, ইরানের কট্টরপন্থীদের একটি অংশ হুথিদের সঙ্গে সম্পর্ককে তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখে।

ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগকে ইরানের কেউ কেউ প্রভাব বিস্তারের স্বীকৃতি হিসেবে দেখলেও শরিয়ত মাদারির মতো কট্টরপন্থীরা সম্ভাব্য ছাড় নিয়ে সন্দিহান। তার মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আঞ্চলিক সমঝোতার প্রশ্নে ইয়েমেন ও হুথিদের অবস্থান ইরানের অভ্যন্তরীণ বিতর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত