আফগানিস্তানে কাজ ও বাসস্থানের তীব্র সংকটের মধ্যে ইরান ও পাকিস্তান থেকে তিন বছরের কিছু বেশি সময়ে ছয় মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দেশে ফিরেছেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের এই প্রত্যাবর্তনে সীমিত কর্মসংস্থান, বাড়িভাড়া ও পানির সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। ফিরে আসা মানুষদের জন্য ঘর ও কাজের ব্যবস্থা করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাওজান প্রদেশের এক কর্মকর্তা। তবে বাকি সমস্যার সমাধান নিয়ে তার আশ্বাস, আল্লাহ ব্যবস্থা করবেন।
উত্তরাঞ্চলীয় জাওজান প্রদেশের রাজধানী শেবেরঘানে স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশে ফিরে আসা মানুষ, উভয়কেই সীমিত কাজ ও আবাসনের জন্য প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। কাজের সন্ধানে সড়কের পাশে জড়ো হওয়া শ্রমিকদের একজন ৮৩ বছর বয়সী গোলাম সাখি বারাত। পরিবারের সাত সদস্যের ভরণপোষণের দায়িত্ব তার ওপর। বারাতের ভাষ্য, ফিরে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ার পর স্থানীয়দের কাজের সুযোগ কমেছে। অনেকেই খাবারের সংকটে পড়ছেন। তার অভিযোগ, দেশে ফিরে আসা মানুষদের সহায়তা দেওয়া হলেও আগে থেকেই সেখানে বসবাস করা স্থানীয়রা তেমন সাহায্য পাচ্ছেন না।
দুই দশক পাকিস্তানে কাটিয়ে আট মাস আগে দেশে ফিরেছেন ৬০ বছর বয়সী আবদুল কাদের হোটাক। কিন্তু জাওজানে তার পরিবারের কোনো জমি বা সম্পত্তি নেই। পাকিস্তানে তার সন্তানরা স্কুলে পড়ত; এখন সামান্য আয় করতে পরিবারের সবাইকে আবর্জনা সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্যাপক প্রত্যাবর্তনের কারণে জাওজান প্রদেশের আকচা এলাকায় জনসংখ্যা ২৬ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। দীর্ঘ খরায় আক্রান্ত এই অঞ্চলে পানির সংকটও বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। ৫৪ বছর বয়সী রাজমিস্ত্রি ফকির মোহাম্মদ খুদাবখশ জানান, এখন সপ্তাহে মাত্র তিন দিন কাজ পান। তার মতে, দেশে ফেরা মানুষদের ঘর ও কাজ, দুটিই প্রয়োজন, অথচ অনেকেরই কোনোটিই নেই। আয়ের বড় অংশ বাড়িভাড়ায় চলে যাওয়ায় খাবার ও পোশাকের মতো প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি আরও জানান, অনেক মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের ১ কোটি ৫৯ লাখ মানুষ, দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, সংকটজনক বা তার চেয়েও গুরুতর মাত্রার খাদ্য অনিরাপত্তায় রয়েছে। একই সঙ্গে আবাসনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাড়িভাড়াও ঊর্ধ্বমুখী। এএফপির সঙ্গে কথা বলা স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভাড়া সর্বোচ্চ ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
তবে জাওজান প্রদেশের তথ্য অধিদপ্তরের পরিচালক সাইফুদ্দিন মুস্তাসেম দাবি করেছেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশে ফিরে আসা মানুষদের মধ্যে কোনো অমীমাংসিত সমস্যা নেই। তার বক্তব্য, কেউ কাজ করতে অনিচ্ছুক না হলে আফগানিস্তানে বেকার থাকার কথা নয়। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠেকাতে দেশজুড়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩০ বছর বয়সী এক সরকারি কর্মচারী এএফপিকে জানিয়েছেন, এমন কোনো কমিটির কথা তিনি কখনো শোনেননি। গত ১৮ মাসে তার বাড়িভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে। তার মতে, দেশে ফিরে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকটও আরও গভীর হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছিল, দেশে ফিরে আসা মানুষ এবং তাঁদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠী, উভয়ের জন্যই দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন। আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের উপবিশেষ প্রতিনিধি জর্জেট গ্যানিয়ন বলেন, সীমিত সম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতা মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়াতে পারে, নতুন করে বাস্তুচ্যুতি ঘটাতে পারে এবং অস্থিতিশীলতা উসকে দিতে পারে।
জাওজানে দীর্ঘস্থায়ী খরা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। প্রদেশটির তথ্য অধিদপ্তরের পরিচালক জানিয়েছেন, অধিকাংশ পানি এখন পান করা কিংবা কৃষিকাজে ব্যবহারের অনুপযোগী। পানির সংকট নিরসনে একটি খাল প্রকল্পের ওপর আশা রাখছে কর্তৃপক্ষ। তবে প্রকল্পটি সম্পন্ন হতে আরও দুই বছর লাগতে পারে।
মুস্তাসেমের বক্তব্য, আফগানরা ক্ষুধা বা তৃষ্ণায় মারা না গেলেও তাদের বাসস্থানের তীব্র প্রয়োজন রয়েছে। দেশে ফিরে আসা মানুষদের জন্য ঘর নির্মাণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বাকি সমস্যার সমাধান নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তার মন্তব্য, আল্লাহ ব্যবস্থা করবেন। সূত্র: ডন
ইসলামের ইতিহাসের টানে স্পেনের আন্দালুসিয়ায় ফিরছেন ইউরোপের মুসলিমরা
কবরের দুই ফেরেশতার প্রশ্ন নিয়ে আপত্তি, ইসলামি বক্তাকে গুলি করে হত্যা
তেহরানের বৈঠক ঘিরে ইরানের কট্টরপন্থীদের মধ্যে মতভেদ