তালেবানের বিরুদ্ধে লড়তে অস্ত্র দিচ্ছে পাকিস্তান, অভিযোগ নাকচ ইসলামাবাদের

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পাকিস্তান আফগানদের অস্ত্র দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বিশেষ দূত জালমাই খলিলজাদের এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রণালয় অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সঙ্গে আফগানদের নিয়োগ দেওয়া কিংবা আফগানিস্তানের ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ এক করে দেখানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খলিলজাদ দাবি করেছিলেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আফগানদের অস্ত্র দিচ্ছে, এমন অনেক প্রতিবেদন রয়েছে। তার আরও অভিযোগ, পাকিস্তান এখন দেশটির বিরুদ্ধে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলায় আফগানদের নিয়োগ করছে। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খলিলজাদের বক্তব্যের জবাবে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য যাচাইবিষয়ক অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়, তার অভিযোগগুলো অনুমাননির্ভর বয়ানের পুনরাবৃত্তি। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে আফগান তালেবান সরকারের প্রতি সমর্থন জোগানোর ব্যক্তিগত এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক। তাঁর অভিযোগের পক্ষে প্রমাণও তুলে ধরা হয়নি বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রণালয় বলেছে, আফগান তালেবান-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে আফগান নাগরিকদের নিয়োগ কিংবা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা করার অভিযোগের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা বিভ্রান্তিকর। মন্ত্রণালয়ের দাবি, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে পাকিস্তান বড় ধরনের ত্যাগ স্বীকার করেছে।

বিবৃতিতে জাতিসংঘের ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেছে পাকিস্তান। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এসব প্রতিবেদনে আফগানিস্তানে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও আল-কায়েদাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানো থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে বিরত রাখার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে খলিলজাদের বক্তব্য। বিবৃতিতে ভারত-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে।

আফগানিস্তানবিষয়ক সাবেক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি খলিলজাদ প্রথম ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ওই চুক্তির পথ ধরেই আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে একাধিকবার পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও এ ধরনের আহ্বান জানান খলিলজাদ।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রণালয় পাঞ্জাবে ইসলামিক স্টেট-খোরাসানের (আইএস-কে) উপস্থিতি নিয়ে খলিলজাদের বক্তব্যের সমালোচনা করেছিল। খলিলজাদ দাবি করেছিলেন, পাঞ্জাবের আখতারাবাদে আইএস-কের এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। পরে পাকিস্তান জানায়, ওই ব্যক্তি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নয়, বরং ডাকাতি বা ছিনতাই-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে আইএস-কের কোনো যোগসূত্র থাকার প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলে দাবি করে মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের মার্চেও খলিলজাদের বিভিন্ন মন্তব্যের জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, নিজেদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসলামাবাদের অনাহূত পরামর্শের প্রয়োজন নেই।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক কয়েক বছর ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে ইসলামাবাদ। গত সেপ্টেম্বরে খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ন্ত্রিত বিমান হামলা চালায়। এরপর সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোন অনুপ্রবেশের অভিযোগ তোলে পাকিস্তান এবং সেগুলো ভূপাতিত করার দাবি করে। পরে আরও দুই দফা পাল্টা বিমান হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: ডন

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত