কবরের দুই ফেরেশতার প্রশ্ন নিয়ে আপত্তি, ইসলামি বক্তাকে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিজ বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ইয়াহায়া মাসুসুকা নামের এক বিতর্কিত ইসলামি বক্তাকে। কবরের মধ্যে মৃত ব্যক্তিকে দুই ফেরেশতার প্রশ্ন করার প্রচলিত বিশ্বাস নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় তিনি আলোচনায় ছিলেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী মাসুসুকা সোমবার সন্ধ্যায় কাতসিনা রাজ্যের দুতসিন মা শহরে নিজের বাড়ির সামনে অতিথিদের বিদায় জানাচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ ঘটনায় তার এক অতিথিও গুলিবিদ্ধ হন।

পরে দুজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এসব মাধ্যমে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করে তিনি ইসলামের প্রচলিত কিছু বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন।

মাসুসুকা মূলত পবিত্র কোরআনের ভিত্তিতে তার বক্তব্য দিতেন। হাদিসের কিছু বর্ণনা নিয়েও প্রশ্ন তুলতেন তিনি। বিশেষ করে মৃত্যুর পর কবরে দুই ফেরেশতা এসে মৃত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেন, ইসলামে ব্যাপকভাবে প্রচলিত এই বিশ্বাসটি তিনি মানতেন না।

এর আগে হাদিস ও অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে বিশ্বাসের কারণে সম্মানিত ইসলামি পণ্ডিতদের উপহাস করার অভিযোগে তাকে নয় মাস কারাগারে থাকতে হয়েছিল।

১৩ বছর বয়সে কোরআনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন মাসুসুকা। পরে মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ওমানে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে নিজ বাড়িতে একটি স্টুডিও স্থাপন করে ধর্মীয় বক্তব্য রেকর্ড করতেন তিনি। সেসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হতো।

বিতর্কিত মতের জন্য পরিচিত হলেও সহিংস উগ্রবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন মাসুসুকা। নাইজেরিয়ায় মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে আন্তধর্মীয় সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে কথা বলতেন তিনি। এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গত বছর তাকে ‘পিস অ্যাম্বাসেডর অ্যাওয়ার্ড’ দেয় নেটওয়ার্ক ফর গুড গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি।

দুই স্ত্রী ও সাত সন্তানের জনক মাসুসুকা গত দুই দশকে নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিহত হওয়া বেশ কয়েকজন পরিচিত মুসলিম ধর্মীয় বক্তার একজন।

এ অঞ্চলে ধর্মীয় বক্তাদের হত্যার পেছনে সশস্ত্র গোষ্ঠী বোকো হারামের সংশ্লিষ্টতার ঘটনাও রয়েছে। ২০০৯ সালে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করা গোষ্ঠীটি তাদের মতাদর্শ ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করায় কয়েকজন ধর্মীয় বক্তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। বোকো হারাম পশ্চিমা সংস্কৃতি, শিক্ষা ও নাইজেরিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থার বিরোধিতা করে এবং একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অনুসরণ করে।

নাইজেরিয়ায় কয়েক দশক ধরে জাতিগত ও ধর্মীয় সহিংসতা চলছে। গত ২৫ বছরে দেশটিতে হাজারো মুসলিম ও খ্রিষ্টান নিহত হয়েছেন।

এএইচএ
আরও পড়ুন