আরব ভোটের শক্তিতে ভয় পাচ্ছেন নেতানিয়াহু: জয়েন্ট লিস্ট

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম

ইসরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়ন ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে আরব জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার জোটের নেতারা, এমন অভিযোগ করেছে আরব-প্রধান দল জয়েন্ট লিস্ট। দলটির দাবি, নির্বাচনে আরব দলগুলোর অভূতপূর্ব সাফল্যে নেতানিয়াহু ও তার সহযোগীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। সেই রাজনৈতিক শক্তিকে খর্ব করতেই আরব ভোটারদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)  এক বিবৃতিতে জয়েন্ট লিস্ট বলেছে, আরব জনগোষ্ঠীর ভোটের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু ও তার কট্টরপন্থী জোটের উসকানিমূলক প্রচার তাদের রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে ভয়েরই বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুবিরোধী বিরোধী শিবিরকে এসব অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না করে মিথ্যা প্রচার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল এখনো সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসনে এবং সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির ৪৮টি আসনে এগিয়ে ছিল। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। অন্যদিকে, দুটি প্রধান আরব দল মিলিয়ে ১৯টি আসন পেতে পারে, যা দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে নজিরবিহীন সাফল্য।

এই পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে নেতানিয়াহুর ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসুফ জাবারিন এর আগে এএফপিকে জানিয়েছিলেন, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী শিবিরকে সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত, তবে সেই জোটের সরকারে যোগ দেবেন না।

এদিকে, আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ তুলে চাপ বাড়িয়েছে নেতানিয়াহুর জোট। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির আরব দলগুলোর নেতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সরকারি কর্মকর্তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

আরব দল রা’আমের নেতা মনসুর আব্বাস অভিযোগগুলোর তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, তার মধ্যপন্থী ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে এসব অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই। ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান নোআম সোলবার্গ রা’আমের বিরুদ্ধে কাতারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করতে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে অনুরোধ করেছেন।

নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এই অভিযোগকে রা’আমগেট কেলেঙ্কারি আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, ইসরায়েলের নির্বাচন চুরি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বামপন্থী নেতা ইয়ার গোলান অভিযোগ করেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর নেতানিয়াহু জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করতে এবং বিশেষ করে আরব জনগোষ্ঠীকে কলঙ্কিত করতে চাইছেন।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানালেও পুরো আরব জনগোষ্ঠীকে একসঙ্গে সন্দেহের চোখে দেখার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষা জরুরি, তবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা একটি সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীকে কলঙ্কিত করা উচিত নয়। ইসরায়েলি পুলিশও জানিয়েছে, নির্বাচনের সততা নিয়ে আসা প্রতিটি অভিযোগ তদন্ত করা হবে।

এদিকে, কাতার নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি অভিযোগগুলোকে একই সঙ্গে হাস্যকর ও বিপজ্জনক বলে বর্ণনা করেছেন। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধেও কাতারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। গত বছর তার দুই সহযোগী উপসাগরীয় দেশটি থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হয়নি।

নির্বাচনের ফলাফল ও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আরব দলগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব এখন ইসরায়েলের বিতর্কের কেন্দ্রে। জয়েন্ট লিস্টের অভিযোগ, বিদেশি হস্তক্ষেপের তদন্তের নামে আরব ভোটারদের সম্মিলিতভাবে সন্দেহভাজন করে তোলা হচ্ছে। তবে বিদেশি অর্থায়ন ও নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

এএস
আরও পড়ুন