আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার চান না নেতানিয়াহু

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

ইসরায়েলে শক্তিশালী ডানপন্থী সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন তিনি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) জেরুজালেমে নিজের দল লিকুদের নির্বাচনী সদর দপ্তরে নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, চূড়ান্ত ভোট গণনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় দল লিকুদ। তার দাবি, ইহুদি ও জায়নবাদী জনগোষ্ঠী এবং ইহুদি রাষ্ট্রের সমর্থকদের মধ্যে ডানপন্থী শিবিরের নির্ণায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী, ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী সরকার গঠন করতে হবে।

আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠনের বিরোধিতা করে নেতানিয়াহু তাদের ইসরায়েলের অস্তিত্বের বিরোধী এবং দেশটির সেনাদের ওপর হামলাকারী বলে অভিযোগ করেন। সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালনকারীদের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট গঠনের পক্ষে থাকা নেতাদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তারা কীভাবে এমন দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার কথা ভাবছেন।

ইসরায়েলের নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে সরকার গঠনের চিত্র এখনো অনিশ্চিত। বুধবার দুপুরের দিকে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্যে নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসনে এগিয়ে ছিল। তার দল লিকুদের আসনসংখ্যা ২৭ বলে ধারণা করা হয়। তবে মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব উঠে আসে। কান ও চ্যানেল ১৩-এর জরিপে নেতানিয়াহুর জোট এবং চার দলের বিরোধী জোট, দুই পক্ষই ৫১টি করে আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়। আরব দলগুলোর জন্য ধরা হয় ১৮টি আসন। চ্যানেল ১২-এর জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের জন্য ৫২টি, বিরোধীদের জন্য ৪৯টি এবং আরব দলগুলোর জন্য ১৯টি আসনের পূর্বাভাস ছিল।

দলীয় সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্যে নেতানিয়াহু তার সরকারের সামরিক অর্জনের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল এবং ইসরায়েল আগের চেয়ে শক্তিশালী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করে ইরানের হুমকি দূর করার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থা ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত হুমকি থেকে যাবে বলে সতর্ক করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

লিকুদের আইনপ্রণেতা আমিত হালেভিও প্রাথমিক আসন-অনুমান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তার মতে, নেতানিয়াহুর জোটের জন্য ৫০টি আসনের যে প্রাথমিক হিসাব দেওয়া হয়েছিল, তা জোটটির প্রকৃত সমর্থনকে যথাযথভাবে তুলে ধরে না। তিনি নির্বাচনকে ৭ অক্টোবরের হামলা এবং তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধের পর ইসরায়েলি সমাজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, ভোটাররা পরিস্থিতির প্রতি উদাসীন থাকেননি; তারা ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন।

আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা নিয়েও আপত্তি জানান হালেভি। তার বক্তব্য, আরব পরিচয়ের কারণে নয়, বরং দলগুলোর যে আদর্শকে তিনি উগ্র বলে মনে করেন, সেটির কারণেই তাদের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে তার আপত্তি। বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনের উদ্যোগও ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লিকুদের সদর দপ্তরে নেতানিয়াহুর সমর্থকদের মধ্যে তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ পেয়েছে। দীর্ঘদিনের দলীয় সদস্য মেইর কোহেন বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন। তার মতে, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সামরিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান জোরদার করেছেন। আরেক সমর্থক তোমের শ্লোমি মিশকাফ লাভান দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজন কমিয়ে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসরায়েলের ভবিষ্যতের জন্য এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যা দেশকে নিরাপদ পথে এগিয়ে নিতে পারবে।

চূড়ান্ত ভোট গণনার আগে নেতানিয়াহু ও তার সমর্থকেরা অপেক্ষা করার আহ্বান জানালেও আসনসংখ্যার হিসাব এবং সম্ভাব্য জোটসঙ্গী নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কোনো পক্ষই এককভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় আরব দলগুলোর ভূমিকা এবং পরবর্তী সরকার গঠনের সমীকরণ ইসরায়েলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

এএস
আরও পড়ুন