আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে দাসব্যবসায় ব্রিটেনের ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। তবে অতীতের দাসপ্রথার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। তার মতে, ক্ষতিপূরণ দেওয়া এ ক্ষেত্রে যথাযথ সমাধান নয়।
বার্নহাম বলেছেন, দাসপ্রথায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তিনি সংলাপে বসতে চান এবং আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবিগুলো বিবেচনা করতে তার আপত্তি নেই। আগামী সপ্তাহে ক্যারিবীয় অঞ্চলে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের সম্মেলন সামনে রেখে তার এই বক্তব্য এসেছে। একই সময়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের অঞ্চলটি সফরকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক শাসন ও দাসব্যবসার জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি নতুন করে সামনে এসেছে।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাসপ্রথার জন্য ব্রিটিশ সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি। একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী বা দেশগুলোকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগও নেয়নি। বার্নহামও তার পূর্বসূরিদের অনুসৃত অবস্থান বজায় রেখে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সম্ভাবনা থেকে সরে এসেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক লেখায় বার্নহাম বলেন, অতীতের ভয়াবহ অন্যায়ের জন্য বর্তমান সময়ের ব্রিটিশ নাগরিকদের দায়ী করা যায় না। তার ভাষ্য, ভিন্ন সময় ও ভিন্ন আইনের অধীনে সংঘটিত এসব অন্যায়ের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের মানুষের ব্যক্তিগত কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তবে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে সৎ ও খোলামেলা আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বার্নহাম বলেন, এ বিষয়ে একটি কাঠামোবদ্ধ সংলাপের ব্যবস্থা করতে চান তিনি। ব্রিটিশ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার যে দাবি উঠেছে, তা এই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। এ ধরনের দাবিগুলো বিবেচনা করতে তিনি প্রস্তুত বলেও জানান।
তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বাদ পড়ায় অসন্তোষ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকর্মীরা। আফ্রিকানদের ক্ষতিপূরণবিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় গোষ্ঠীর চেয়ার বেল রিবেইরো-অ্যাডি বলেছেন, দাসব্যবসায় ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা স্বীকার করার বিষয়টি ইতিবাচক হলেও আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় ক্ষমা চাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার এখনো পিছিয়ে রয়েছে। তার মতে, ক্ষমা চাইতে সরকারের কোনো আর্থিক ব্যয়ও হবে না।
দ্য রিপেয়ার ক্যাম্পেইনের প্রতিষ্ঠাতা ডেনিস ও’ব্রায়েনও বার্নহামের বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এই বক্তব্য যথেষ্ট নয়। ব্রিটিশ সরকারের উচিত অস্পষ্ট অবস্থান পরিহার করে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ ও আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া। তার ভাষায়, এমন ক্ষমা হবে ক্ষতিপূরণমূলক ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী পদক্ষেপ।
ষোড়শ শতাব্দী থেকে কয়েক শতাব্দী ধরে চলা আটলান্টিকের দাসব্যবসায় ইংল্যান্ডের শাসকগোষ্ঠী ও রাজতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেই ঐতিহাসিক ভূমিকার দায় স্বীকার, আনুষ্ঠানিক ক্ষমা এবং ক্ষতিপূরণের দাবিই এখনো ব্রিটেনের সঙ্গে সাবেক উপনিবেশগুলোর আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। সূত্র: বিবিসি
হরমুজের কাছে দ্বিতীয় মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন জব্দ আইআরজিসি'র
ইরানি দ্বীপপুঞ্জে আমিরাতের দাবির প্রতি কানাডার সমর্থন, তেহরানের নিন্দা
'ইরানের দিকে কেউ যেনো নজর দেওয়ার সাহস না পায়'