মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময়মাধ্যম বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদ চুরির অভিযোগ উঠেছে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর চালানো এই সাইবার হামলার পেছনে রয়েছে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটর। সংস্থাটির দাবি, ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সাইবার নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় এফবিআই জানায়, চুরি করা সম্পদ ইতিমধ্যে অন্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করতে শুরু করেছে হ্যাকাররা। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোর তদন্তে দেখা গেছে, চুরি হওয়া ডিজিটাল সম্পদের বড় অংশ ইথেরিয়ামে রূপান্তর করা হচ্ছে। এ তদন্তে এফবিআইয়ের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের অপরাধ তদন্ত শাখা।
ব্লকচেইন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসের হিসাব অনুযায়ী, হামলার সময় বাইন্যান্সের ওয়ালেট থেকে ১০টি ব্লকচেইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রায় ৬৩৬ কোটি ডলারের সম্পদ সরানো হয়েছে। এর অধিকাংশই স্থানান্তর করা হয় প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে। প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমাত্রার আস্থার সঙ্গে এই হামলার জন্য ট্রেডারট্রেইটরকে দায়ী করেছে।
চুরি করা অর্থের উৎস আড়াল করতে হ্যাকাররা বিকেন্দ্রীভূত অর্থায়নব্যবস্থা এবং তাৎক্ষণিক ক্রিপ্টো বিনিময় পরিষেবা ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মার্কিন সংস্থাগুলো। এসব মাধ্যমে লেনদেনের গতিপথ অনুসরণ করা এবং চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধার করা তদন্তকারীদের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময়মাধ্যম, ব্লকচেইন অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং ডিজিটাল সম্পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারীর সহযোগিতা চেয়েছে এফবিআই। বিশেষ করে টিএইচওআরনোড পরিচালনাকারী, আরপিসি নোড অপারেটর, তাৎক্ষণিক বিনিময়মাধ্যম, বিকেন্দ্রীভূত অর্থায়ন পরিষেবা এবং ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চুরি হওয়া সম্পদের লেনদেন ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিংবা উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণাধীন বলে শনাক্ত করা ডিজিটাল ওয়ালেট ঠিকানাগুলোর মাধ্যমে লেনদেন আটকে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি। এফবিআই প্রকাশিত তালিকায় ইথেরিয়াম, বিটকয়েন ও সোলানাসহ বিভিন্ন ব্লকচেইন নেটওয়ার্কের ওয়ালেট ঠিকানা রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব ঠিকানায় চুরি করা সম্পদ বর্তমানে রয়েছে অথবা হামলার পর কোনো একসময় রাখা হয়েছিল।
এদিকে বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রায় ৯০ শতাংশের সমপরিমাণ সম্পদ পুনরায় সংস্থানের ব্যবস্থা করেছে তারা। সম্ভাব্য ক্ষতি সামাল দিতে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৬৩৪ কোটি ডলার আলাদা করে রাখার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি ব্লকচেইন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ শনাক্ত ও আটকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে অর্থ উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় বাইন্যান্স। রোববারের (১ নভেম্বর) মধ্যে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেংয়ের ভাষ্য, একটি ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে জটিল এই হামলা চালানো হয়েছিল। অনুপ্রবেশের প্রমাণ মুছে ফেলতেও ওই ম্যালওয়্যার তৈরি করা হয়েছিল।
গ্রাহকদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাইন্যান্স। এ জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল ও আর্থিক সঞ্চিত অর্থ ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে চুরি হওয়া সম্পদ শনাক্ত, আটকে দেওয়া এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
আরবাইন উপলক্ষে কারবালায় হামলার পরিকল্পনাকারীর যাবজ্জীবন
আলজেরিয়ার স্বাধীনতা বিপ্লবের ৭২ বছর পূর্তি, পেজেশকিয়ানের অভিনন্দন
জাতীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে ইরাকের অর্থনীতি শক্তিশালী করার তাগিদ
ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে আটকের ছবি প্রকাশ করলো ইসরায়েলি সেনা