ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানের নেতৃত্বের বড় একটি অংশকে হত্যার পর এখন আলোচনার জন্য কথা বলার মতো কেউ অবশিষ্ট নেই।
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রোববার (১ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ডুবুক শহরে রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকদের এক সমাবেশে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। একই সঙ্গে দাবি করেছেন, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরানই শুরু করেছে।
ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের শীর্ষ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশটির কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করেছেন তিনি।
১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। এ ছাড়া ইয়েমেনের এডেন বন্দরের কাছে ২০০০ সালে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কোল-এ হামলার জন্যও তিনি ইরানকে দায়ী করেন। তবে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা।
ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে সড়কের পাশে পেতে রাখা বোমা হামলার জন্যও তেহরানকে দায়ী করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করেছিল। তাঁকে সড়কপাশের বোমা হামলার ‘জনক’ বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন হামলায় নিহত হন সোলাইমানি।
সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানই যুদ্ধ শুরু করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নয়। এখন যুক্তরাষ্ট্র সেই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাচ্ছে এবং ইরানকে পরাজিত করছে।
এরপর তিনি আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং নেতৃত্বকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
তবে ইরানের নেতাদের হত্যার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো একটু বেশিই দূর চলে গেছে। কারণ, এখন আলোচনার জন্য কথা বলার মতো কেউ নেই।
সূত্র: আল-জাজিরা
'নতুন কোনো হামলা হলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপেও পৌঁছাবে'
ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের অবকাশ কেন্দ্রের কাছে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৯