চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তেহরানের কঠোর বার্তা

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১০ পিএম

জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না ইরান। সোমবার (২ নভেম্বর) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই'র সঙ্গে বৈঠকে এ অবস্থানের কথা জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব আলী বাঘেরি কানি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করেছেন তিনি।

বৈঠকে বাঘেরি কানি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তেহরানের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। এসব বিষয়ে ইরান কোনো ছাড় দেবে না। দেশটির রাষ্ট্রীয় অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষায় ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ প্রশ্নে আপসের কোনো সুযোগ নেই।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে অবৈধ আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করেন বাঘেরি কানি। ইসলামি বিপ্লবের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডকে ‘অবিস্মরণীয় যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দেন তিনি। এ ধরনের নৃশংসতা যেন আর চলতে না পারে, তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধংদেহী নীতি ও আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষার পরিণতি নিয়েও সতর্ক করেন তিনি। বাঘেরি কানি বলেন, একটি সম্পূর্ণ সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে বিজয় অর্জন সম্ভব নয়। এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তার মতে, কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি শুধু সেই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বৈঠকে যুদ্ধ অবসানে ইরানের কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান বাঘেরি কানি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কূটনীতির বিষয়ে ইরানের অবস্থানকে সমর্থন করছে চীন। সামনের দিনগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তেহরান ও বেইজিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গিতেও মিল রয়েছে।

অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের পাশে রয়েছে বেইজিং। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সমাধান আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য আবারও অস্ত্রের আশ্রয় নেওয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের দিকে মনোযোগ দিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান চীনের এই শীর্ষ কূটনীতিক।

প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রথম সামরিক অভিযান শুরু হয়, যা ১২ দিন স্থায়ী হয়েছিল। এরপর একই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় হামলা শুরু হয় এবং ৪০ দিন পর এপ্রিলের শুরুতে তা থামে। ইরানের দাবি, দুই দফা সংঘাতেই তাদের প্রতিরোধ ও পাল্টা অভিযান শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে বাধ্য করে।

দ্বিতীয় দফার সংঘাতের শুরুর দিক থেকেই হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান। পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের জবাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন নতুন করে সামরিক হামলার হুমকি জোরালো করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে ইরান জানিয়েছে, দেশটির জনগণের বৈধ আত্মরক্ষার প্রয়োজনে তারা ‘ভৌগোলিক সীমারেখাহীন’ পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। সূত্র: প্রেস টিভি

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত