ডিয়েগো গার্সিয়ায় যৌথ সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ দূর করতে মরিশাসের সঙ্গে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের চুক্তি নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং কয়েকটি বিকল্প কাঠামো বিবেচনা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দ্য ইকোনমিস্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমাদের মার্কিন বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করছি, কীভাবে চুক্তির কাঠামো এমনভাবে পুনর্গঠন করা যায়, যাতে তাদের উদ্বেগ আরও ভালোভাবে বিবেচনায় আসে।’
ডিয়েগো গার্সিয়ার সামরিক ঘাঁটিকে যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৌশলগত গুরুত্বের কারণেই ঘাঁটিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে (সিএইচওজিএম) অংশ নিয়ে অ্যান্টিগা থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, চুক্তির সম্ভাব্য কয়েকটি মডেল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সমঝোতার উদাহরণ টেনে বার্নহ্যাম বলেন, সেখানে একটি সমাধান পাওয়া গেছে। ডিয়েগো গার্সিয়ার ক্ষেত্রেও সেই অভিজ্ঞতা থেকে কোনো কার্যকর পথ বের করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং বলেও স্বীকার করেন তিনি।
২০২৫ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আমলে স্বাক্ষরিত মূল চুক্তি অনুযায়ী, চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে মরিশাসের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য দ্বীপটি ইজারা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছিল।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর মরিশাসকে বছরে ১৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২২২ মিলিয়ন ডলার) দেওয়ার কথা ছিল যুক্তরাজ্যের। পরবর্তী সময়ে বার্ষিক অর্থের পরিমাণ কমে ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড হওয়ার কথা।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে চুক্তিটির বিরোধিতা করেন। তিনি একে ‘ভয়াবহ’ ও ‘হাস্যকর’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর আপত্তির পর চুক্তিটি এখনো অনুসমর্থন পায়নি এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়াও স্থগিত রাখা হয়েছে।
নতুন করে চুক্তির কাঠামো সাজানোর উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ডিয়েগো গার্সিয়ার সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ এবং চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
ট্রাম্পের হুমকির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব তেহরানের
‘যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলে ইসরাইলকে আটকাতে চায় ইরান’