ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান উয়েনো ব্যাংকের পতনের পর প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনার পদত্যাগের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি দেশটির কংগ্রেস। বরং তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইনপ্রণেতারা। ব্যাংকটির লাখ লাখ গ্রাহক নিজেদের হিসাবের অর্থে প্রবেশ করতে না পারার মধ্যেই বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন পেনা।
২০২৩ সাল থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা পেনা এক রেকর্ড করা ভাষণে বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে আইনপ্রণেতারা তাঁর পদত্যাগ গ্রহণে রাজি হননি। নিম্নকক্ষে ৭৮-০ ভোটে তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে সিনেটেও অভিশংসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার শুনানিতে অংশ নিতে পেনাকে তলব করেছে উচ্চকক্ষ।
পদত্যাগের প্রস্তাব বিবেচনায় কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। কিন্তু পেনার দল কলোরাডো পার্টির আইনপ্রণেতারা অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়নি। ফলে পদত্যাগের প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কোরামও পূরণ হয়নি।
কলোরাডো পার্টির নেতা ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হোরাসিও কার্তেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পেনার অভিশংসনের পক্ষে অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।
তিনি লেখেন, সরকারি, বেসরকারি ও পেনশন তহবিলের অর্থ চুরির পক্ষে তাঁরা অবস্থান নেবেন না। জনগণ এবং কলোরাডো পার্টির মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
পেনার পদত্যাগ গ্রহণ না করায় তাঁর আইনি ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। প্যারাগুয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব ছাড়লে সাধারণত আজীবন সিনেটর হওয়ার সুযোগ পান। আইনসভার সদস্য হিসেবে তিনি কিছু আইনি দায়মুক্তিও ভোগ করেন। তবে অভিশংসন বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে এ সুবিধা পাওয়া যায় না।
যেভাবে শুরু ব্যাংক ধসের সংকট
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, উয়েনো ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার অনুপাত আইন নির্ধারিত সীমার নিচে নেমে গেছে। ব্যাংকের হিসাব সংশোধনের পর দেখা যায়, সম্ভাব্য ক্ষতি সামাল দিতে ব্যাংকের যে পরিমাণ মূলধন সংরক্ষণ করার কথা, তা আইনগত ন্যূনতম সীমার অর্ধেকেরও কম।
ধসের আগে উয়েনো ব্যাংক দাবি করেছিল, ৬৫ লাখ মানুষের দেশ প্যারাগুয়েতে তাদের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। ব্যাংকটির পতনের পর অনেক গ্রাহক নিজেদের হিসাবের অর্থ ব্যবহার করতে পারছেন না। এ ছাড়া ব্যাংকটির মাধ্যমে দেওয়া পেনশনের অর্থও আটকে গেছে।
সংকট মোকাবিলায় প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক উয়েনোর অবশিষ্ট তহবিল অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ব্যাংকটির কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি না করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সমালোচনার মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্লোস কারভালো পদত্যাগ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট পেনারও উয়েনো ব্যাংকের মূল প্রতিষ্ঠান গ্রুপো ভাসকেজে একসময় মালিকানার অংশীদারত্ব ছিল। তবে তিনি দাবি করেছেন, ২০২৫ সালে ওই শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন।
তবু আইনপ্রণেতারা তাঁর বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ তুলেছেন। ব্যাংকটির আর্থিক সংকটের তথ্য আড়াল করতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমন্বিত চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
আলজাজিরার লাতিন আমেরিকা সম্পাদক লুসিয়া নিউম্যান বলেন, পেনার বিরুদ্ধে অন্তত অবহেলা এবং ব্যাংকটির দেউলিয়া হওয়ার বিষয়টি আড়াল করতে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ গ্রহণ না করে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে কংগ্রেসের বাইরে মানুষ জড়ো হয়েছেন।
ধসের আগে উয়েনো একটি ছোট পরিসরের প্রতিষ্ঠান থেকে দ্রুত বেড়ে মাঝারি আকারের ব্যাংকে পরিণত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮৫ কোটি ডলারের সরকারি তহবিল পরিচালনা করত।
ব্যাংকটির পতনের ঘটনায় প্যারাগুয়ের অ্যাটর্নি জেনারেল তিনটি ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এসব তদন্তে ব্যাংকটির তদারকি এবং সেখানে সরকারি অর্থ জমা রাখার সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখা হবে। পেনা জানিয়েছেন, তদন্তকারীদের সহযোগিতা করবেন তিনি।
পদত্যাগের ঘোষণায় পেনা বলেন, তাঁর সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো আটকে থাকা অর্থ ফেরত নিশ্চিত করা, আমানত সুরক্ষা তহবিলের যথাযথ ব্যবহার এবং সব প্যারাগুয়েবাসীর সম্পদ ও সরকারি অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
শেষ পর্যন্ত পেনাকে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে পারেন।
এদিকে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা
৫৪৮ জনের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেন ক্যালিফোর্নিয়ায় গভর্নর
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে খামেনির বার্তা পৌঁছে দিলেন মোহসেন রেজায়ি
নির্বাচনে হারের পেছনে কারণ 'জ্বালানির দাম': মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী