ভবিষ্যতেও হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা ঠিক রাখতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৫ এএম

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসকে ‘জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ’ ঘোষণা করে সেখানে ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টদের বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন ঠেকানোর উদ্দেশ্যে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আদেশটির আইনগত কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নির্বাহী আদেশে সই করার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কেউ যেন এটি ধ্বংস করতে, ভেঙে ফেলতে কিংবা সামান্য ভিন্ন নকশায় নতুন করে নির্মাণ করতে না পারে, সে ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটিকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে গড়ে তুলছি। কোনো নির্বোধ ব্যক্তি যেন এটি স্পর্শ করতে, ধ্বংস করতে বা ভেঙে ফেলতে না পারে।’

নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে ওভাল অফিসের সাজসজ্জায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন সাবেক এই আবাসন ব্যবসায়ী। বিশেষ করে কক্ষটির ভেতরে সোনালি রঙের বিভিন্ন অলংকার, ছবি ও সাজসজ্জার উপকরণ যুক্ত করেছেন তিনি। ওভাল অফিসের বাইরেও বসানো হয়েছে বড় সোনালি ফলক।

নির্বাহী আদেশে ওভাল অফিসের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি কক্ষকেও জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসকে কক্ষটির ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য, স্থাপত্যগত অখণ্ডতা ও প্রেসিডেন্সির সঙ্গে এর সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তবে আদেশে প্রেসিডেন্টের সাজসজ্জা পরিবর্তন, আসবাব নির্বাচন কিংবা নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের প্রয়োজনে সাধারণ পরিবর্তন করার ক্ষমতা বহাল রাখা হয়েছে। শর্ত হলো, এসব পরিবর্তনে স্থাপনাটির ঐতিহাসিক কাঠামো বা স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করা যাবে না।

ট্রাম্পের ভাষায়, হোয়াইট হাউস ও ওভাল অফিস যুক্তরাষ্ট্রের প্রতীক। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের নেতারা তাঁর করা সাজসজ্জার প্রশংসা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ওভাল অফিসে পরিবর্তন আনার আগে কক্ষটির অবস্থা খারাপ ছিল উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, সেখানে জানালা ভাঙা, দেয়ালে ফাটল এবং পাথরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। তবে তাঁর আনা দৃশ্যমান অনেক পরিবর্তনই ছিল মূলত সাজসজ্জাসংক্রান্ত।

এসব পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ওভাল অফিসের বাইরে বড় সোনালি নামফলক স্থাপন, রোজ গার্ডেনের মেঝে পাকা করা এবং নতুন হেলিকপ্টার অবতরণস্থল নির্মাণ।

এর আগে গত অক্টোবরে টাইম সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, নিরাপত্তার কারণে ভবিষ্যতে ওভাল অফিস ভেঙে নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজন হতে পারে—এমন উদ্বেগ জানিয়েছিল মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। তবে তিনি নিজে এমন প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।

আইনগত কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

ওভাল অফিসসহ পুরো হোয়াইট হাউস আগেই জাতীয় ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত। এ ধরনের স্বীকৃতির উদ্দেশ্য হলো ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রক্ষা করা এবং হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তন ঠেকানো।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের হোয়াইট হাউসের কিছু পরিবর্তন করার ক্ষমতা রয়েছে। বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ আইনেও প্রেসিডেন্টদের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা আইন প্রতিষ্ঠান কালচারাল হেরিটেজ পার্টনার্সের গ্রেগ ওয়ার্কহাইজার বিবিসিকে বলেন, আসবাব ও সাজসজ্জার মতো অস্থায়ী পরিবর্তন প্রেসিডেন্টের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। স্থায়ী শিল্পকর্ম ও স্থাপত্যের ক্ষতি না হলে প্রেসিডেন্ট সাধারণত নিজের পছন্দ অনুযায়ী এসব পরিবর্তন করতে পারেন।

তাঁর মতে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের আইনগত কার্যকারিতা সীমিত। তিনি এটিকে ‘ভণ্ডামি’ বলেও মন্তব্য করেছেন। কারণ, একদিকে ট্রাম্প ওভাল অফিসের ঐতিহ্য সংরক্ষণের কথা বলছেন, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনা নিয়ে তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন প্রকল্প ও আইনি পদক্ষেপ সংরক্ষণ আইনকে দুর্বল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পূর্ব উইং ভাঙা নিয়েও বিতর্ক

ওভাল অফিস সংরক্ষণের আদেশ এমন এক সময়ে এলো, যখন ট্রাম্পের উদ্যোগে হোয়াইট হাউসের পূর্ব উইংয়ের পুরো অংশ ভেঙে ফেলার ঘটনা নিয়ে আইনি বিতর্ক চলছে। ওই জায়গায় নতুন বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি কংগ্রেসের অনুমোদন পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্মাণকাজও চলছে।

এ ছাড়া ওয়াশিংটনে ব্যাপক সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন ট্রাম্প। কেনেডি সেন্টারের সংস্কার এবং শহরে নতুন বিজয়তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনাও এর অংশ।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ডেমোক্র্যাটদের কাছে বড় পরাজয়ের মুখে পড়ার পরও গত সপ্তাহে এসব নির্মাণকাজের প্রচারে তিনি একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

ওভাল অফিসের নকশা পরিবর্তন নিয়ে নির্বাচনী প্রচারের সময় ডেমোক্র্যাটরাও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর সোনালি সাজসজ্জা নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন, এতে হোয়াইট হাউসের চেহারা এমন হয়েছে যেন ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন সেখানে একটি চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন।

ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশে ওভাল অফিসের ঐতিহাসিক চরিত্র সংরক্ষণের ঘোষণা দেওয়া হলেও ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টদের ওপর এটি কতটা বাধ্যতামূলক হবে, তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে। ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধে ফেল এবার এশিয়ার দিকে নজর দিতে পারেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক ধাক্কার পর পররাষ্ট্রনীতিতে সাফল্য দেখাতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবার আলোচনার উদ্যোগ নিতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ছাড় না দিলে কিম আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী হবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেশটির আলোচনায় বসার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিয়েছে।

রয়টার্সের ৬ নভেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের মেয়াদের শেষ দুই বছরে পররাষ্ট্রনীতিতে দৃশ্যমান সাফল্য অর্জনে মনোযোগী হতে পারেন তিনি। ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের সমাধান নিয়ে অগ্রগতি না হওয়ায় এশিয়ার দিকে নজর দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সিউলের কোরিয়া ন্যাশনাল ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক বান কিল-জু বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সীমাবদ্ধতা বাড়লে ট্রাম্প পররাষ্ট্রনীতিতে সাফল্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালাতে পারেন। ২০২৮ সালের নির্বাচনে নিজের পছন্দের উত্তরসূরিকে জেতানোর লক্ষ্য থেকেও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ তাঁর এজেন্ডায় থাকতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে আলোচনায় ফেরার বিষয়ে কিমের বিশেষ কোনো আগ্রহ নেই।

ট্রাম্পের আগ্রহ, কিমের নীরবতা

ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন। দুই নেতার মধ্যে একসময় তীব্র বাক্যযুদ্ধ চললেও পরে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। কিমকে ‘দারুণ মানুষ’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

কিন্তু ২০১৯ সালে দুই নেতার শেষ শীর্ষ বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রশ্নে সমঝোতা হয়নি।

এরপর সাত বছরে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও বেড়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কও আগের তুলনায় ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে কিমের ওপর চাপ কমেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

চলতি বছর চীনে অনুষ্ঠিতব্য একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের আগে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটন কোনো জবাব পায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারাও এ বছর দুই নেতার বৈঠকের সম্ভাবনা কমে আসছে বলে মনে করছেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি রয়টার্সকে বলেন, ট্রাম্প বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছেন। তাঁর পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত কখনো রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়ার শর্ত মানবে না পিয়ংইয়ং

কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং সম্প্রতি বলেছেন, সংলাপ শান্তির একটি পথ হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার প্রয়োজন দেখছে না পিয়ংইয়ং। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুতাপূর্ণ নীতির’ সমালোচনা করেছেন।

এর আগে কিম জং উনও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন যদি উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের শর্ত দেওয়া বন্ধ করে, তাহলে আলোচনায় বসার সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু এ ধরনের ছাড় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের আপত্তি রয়েছে। সিউলের ইহওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লেইফ-এরিক ইজলি মনে করেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি বাদ দিয়ে কোনো শীর্ষ বৈঠক হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে এবং ওয়াশিংটন, সিউল ও টোকিওর মধ্যে নীতিগত বিরোধ তৈরি করতে পারে।

জাপানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, টোকিও ও সিউলের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প সরাসরি কিমের সঙ্গে সমঝোতায় গেলে তাঁরা আলোচনার বাইরে পড়ে যেতে পারেন। বিশেষ করে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি থেকে ওয়াশিংটন সরে এলে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে।

এশিয়ার নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা

ট্রাম্প বিভিন্ন সময় উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোসহ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো পিয়ংইয়ংকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়নি।

জাপানের সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজুহিরো মায়েশিমার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তির অবস্থান মেনে নেয়, তাহলে এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। তাঁর ভাষায়, ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি দুই বছরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি ঘটতে পারে।

২০১৮-১৯ সালের শীর্ষ বৈঠকের সময়ের তুলনায় উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা এখন অনেক বেশি উন্নত। দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার ও ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল, আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন এবং ড্রোন সক্ষমতাও উন্নত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় কিমকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে ট্রাম্পকে আংশিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চেয়েও বড় ছাড় দিতে হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাম্পের হাতে সীমিত সময় থাকায় এ ধরনের সমঝোতা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।

ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মুন চুং-ইন বলেন, উত্তর কোরিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি ও হিসাব-নিকাশই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। কিম যদি মনে করেন ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং কংগ্রেসের সমর্থন পাচ্ছেন না, তাহলে আলোচনায় বসার কোনো কারণ তিনি দেখবেন না।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে উত্তর কোরিয়া নিয়ে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বিগানও মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পিয়ংইয়ংয়ের আলোচনায় বসার প্রণোদনা খুবই কম। তাঁর মতে, এ ধরনের বৈঠক থেকে উত্তর কোরিয়ার লাভের সম্ভাবনা সামান্য, বরং কিছু ঝুঁকিও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনী ধাক্কার পর ট্রাম্পের কাছে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, কিমের বর্তমান কৌশলগত হিসাব এবং দক্ষিণ কোরিয়া-জাপানের নিরাপত্তা উদ্বেগ—এই তিনটি বিষয় নতুন আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে থাকতে পারে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত